এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন—
حَدَّثَنَا أَبُو الْحَكَمِ الْبَجَلِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، وَأَبَا، هُرَيْرَةَ يَذْكُرَانِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ وَأَهْلَ الأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لأَكَبَّهُمُ اللَّهُ فِي النَّارِ ” .
আবূল হাকাম আল-বাজালী (রহ.) বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরা (রা.)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সকলে একত্রে মিলিত হয়েও যদি একজন মু’মিনকে মেরে ফেলার কাজে শরীক থাকে তাহলে আল্লাহ তা’আলা তাদের সকলকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ১৩৯৮)
হাদিসের ব্যাখ্যা
এই হাদিসটি ইসলামে রক্তের পবিত্রতা ও অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে ‘আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সকলে’—এই ব্যাপক শব্দচয়ন দ্বারা বোঝানো হয়েছে, কোনো অপরাধে সংখ্যার আধিক্য, সামাজিক সম্মতি বা শক্তির প্রভাব আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একজন মু’মিনকে হত্যা করার অপরাধ এতটাই জঘন্য যে, তাতে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ না করেও যদি কেউ পরিকল্পনা, সমর্থন, উসকানি বা নীরব সম্মতির মাধ্যমে শরিক হয়—তাহলেও সে দায়মুক্ত নয়।
হাদিসে ‘উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ’ করার কথা বলা হয়েছে, যা চরম লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তির ইঙ্গিত বহন করে। এটি প্রমাণ করে, ইসলামে ন্যায়বিচার কেবল ব্যক্তিগত স্তরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামষ্টিক অন্যায়, রাষ্ট্রীয় জুলুম কিংবা গণহত্যার মতো অপরাধও আল্লাহর আদালতে সমানভাবে কঠোর শাস্তিযোগ্য।
এই হাদিস আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মু’মিনের জীবন রক্ষা করা শুধু আইনগত বা সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি ঈমানের দাবি। যেখানে রক্তপাতকে হালকা করে দেখা হয়, সেখানে আল্লাহর গজব অনিবার্য হয়ে ওঠে।