দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : শরতের স্নিগ্ধ আবহ, সোমেশ্বরী নদীর তীরে দোল খাওয়া সাদা কাশফুল আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে কথা, কবিতা ও গানের মায়াবী মেলবন্ধনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কথা-কবিতা-গানে কাশ উৎসব। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে সোমেশ্বরী নদীর কাশবাগান এলাকায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদ সন্তোষ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে সাহিত্য, কবিতা ও সংগীতকে ঘিরে এ আয়োজন স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নদীর তীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কাশফুলের শুভ্রতা আর সাহিত্য-সংস্কৃতির আবেশে আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রকৃতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য সম্মিলন।
শহীদ সন্তোষ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাংবাদিক পলাশ সাহার সভাপতিত্বে, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান, সমাজসেবক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, কবি লোকান্ত শাওন, কবি সজীম শাইন, কবি অনিন্দ্য জসীম, কবি দুনিয়া মামুন ও টোকন সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি বিদ্যুৎ সরকার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রাজেশ গৌর, সৈকত সরকার ও শহীদ সন্তোষ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সপ্তম চক্রবর্তী।
বর্তমান সময়ে ব্যস্ততা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের ভিড়ে সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৃজনশীল ভাবনা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে কবিতা, গান ও সাহিত্যের সৌন্দর্য তুলে ধরতে প্রকৃতিনির্ভর এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্গাপুরের রয়েছে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
পাহাড়, নদী, কাশবন আর নানা জনগোষ্ঠীর জীবনধারায় সমৃদ্ধ এ জনপদ শুধু ভ্রমণপিপাসুদেরই আকর্ষণ করে না, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার জন্যও তৈরি করে অনুকূল পরিবেশ। সোমেশ্বরী নদীর কাশবাগানে এমন আয়োজন সেই সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
শহীদ সন্তোষ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকলে দুর্গাপুরের সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা আরও বিকশিত হবে এবং স্থানীয় কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। প্রতিবছরই সংস্কৃতিজনদের মিলন ঘটাতে এই আয়োজন অব্যাহত রাখার আহবান জানানো হয়। আলোচনা শেষে, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।