আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি সাক্ষ্য দেন।সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যে ভুক্তভোগী এই সাক্ষী বলেছেন, তিনি জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হতো।
এর মধ্যে একটি মামলায় খালাস পেলেও অন্য মামলাগুলোর বিচার এখনো চলমান। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি আট বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন বলে সাক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালকে জানান তাজুল ইসলাম।
গুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জড়িত ছিলেন দাবি করার পাশাপাশি এই সাক্ষী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টাসহ ডিজিএফআই’র তৎকালীন দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন ট্রাইব্যুনালের কাছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাঁকে এক প্রশ্নের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। পরে সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২২ জুলাই বাকি জেরার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। গতকাল সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা হলেন- লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।
গুমের এ মামলায় গত বছরের ৮ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।