আজ দুপুর বেলা ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের কাছে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো. খালেদ ইবনে এম এ রব। কান্নামাখা কণ্ঠে খালেদ বলেন, “ভাই, এয়ারপোর্ট ফুটওভার ব্রিজের নিচে একজন মহিলার মাথা পোকায় খাচ্ছে। সম্ভবত দুর্ঘটনায় মাথা ফেটে গিয়েছিল। এরপর আর চিকিৎসা হয়নি। মাথার ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে সেখানে অসংখ্য পোকা বাসা বেঁধেছে।”
ঘটনা শুনে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি ওখানে যাচ্ছি।” পাশে থাকা তাঁর সহধর্মিণীও বললেন, “আমিও সঙ্গে যাব।”
এর মধ্যে এস এম জাহাঙ্গীর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলেন। পরে তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের আসার খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমানও ছুটে আসেন। ঘটনা শুনে টেলিফোনে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আমান।
কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক মানবিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ নারীর মাথায় শত শত পোকা বাসা বেঁধেছে। সেগুলো বের হয়ে আসছে হাসপাতালের বিছানায়। চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে।
এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, “যে কোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকব।” হাসপাতালের পরিচালক অসুস্থ নারীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে আফসোস করে বলেন, “এমন বাস্তুহারা রোগীর চিকিৎসা আগেও করেছি। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তাঁদের হস্তান্তর করার মতো কাউকে পাই না।”
এ কথা শুনে সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা বলেন, “চিকিৎসা শেষে এই নারীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব আমি নেব।”
এমন গৃহহীন, স্বজনহীন ও অসহায় মানুষের সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়। কিন্তু তাঁদের দিকে আমরা সচরাচর ফিরেও তাকাই না। অথচ দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে তাঁদের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই চেষ্টা করা উচিত যার যার অবস্থান থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর। এস এম জাহাঙ্গীরের এই চেষ্টায় ত্রুটি নেই।