চলতি বছরের শুরুতেও নৌবহরে প্রায় ২০ হাজার পদ খালি ছিল বলে জানা গেছে। এ কারণে কমসংখ্যক নাবিক দিয়ে পরিচালনা করা যায় এমন ইএমএএলএস বাদ দিয়ে বেশি জনবল প্রয়োজন হয় এমন পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। নতুন ব্যবস্থা বসানো ও পরে সেটি খুলে পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্নও উঠতে পারে। কারণ, একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের জন্য কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাইছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের খরচ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় রিপাবলিকানরা সামরিক বাহিনী ও হোয়াইট হাউসের অন্যান্য অগ্রাধিকারের জন্য ৯৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হেগসেথ এই অতিরিক্ত অর্থকে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট হবে সামরিক বাহিনীতে এক প্রজন্মের জন্য বড় বিনিয়োগ। প্রতিনিধি পরিষদ অল্প ব্যবধানে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রস্তাবই পাস করেছে। তবে সিনেট এখনো এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে সিনেটের অধিবেশন আবার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্পের স্মারকে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণের আরেকটি সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। স্মারকে বলা হয়েছে, নৌবাহিনী জাহাজের নকশায় নিয়মিত পরিবর্তন আনে। এসব পরিবর্তনের কারণে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে, কাজ শেষ করতে বেশি সময় লেগেছে এবং কিছু প্রকল্প বাতিলও হয়েছে। তবে এবার যে জাহাজে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে। ফলে শেষ পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন করলে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প যখন মার্কিন রণতরিতে ইএমএএলএস বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন চীন তাদের নতুন বিমানবাহী রণতরিগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
ফ্রান্সও জানিয়েছে, তাদের নতুন বিমানবাহী রণতরিতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো বাষ্পচালিত ব্যবস্থায় ফেরার সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন চীন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো আধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। এখন পেন্টাগন ও নৌবাহিনীকে ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তনের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। একই সময়ে কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনা চলছে এবং নৌবাহিনীকে জাহাজ নির্মাণ ও জনবল সংকট- দুই ধরনের চাপই সামলাতে হচ্ছে।