ইদানীং স্মার্টফোন স্ক্রল ও সোশ্যাল মিডিয়ার রিলের নেশায় আট থেকে আশি বয়সী মানুষগুলো যেন পুরোপুরি বুঁদ হয়ে যাচ্ছে। এই ডিজিটাল জীবনের ফলে নতুন এক মানসিক অবস্থা দেখা দিয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে পপকর্ন ব্রেন সিনড্রোম। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।পপকর্ন ব্রেন সিনড্রোম কী?
নামটি এসেছে এই কারণে যে, এই সমস্যায় মস্তিষ্কে এমন উত্তেজনা তৈরি হয় যা একের পর এক ছোট শট-এর মতো ঘটতে থাকে—ঠিক যেমন মাইক্রোওয়েভে পপকর্ন ফেটে যায়।ফলে এক জায়গায় মন ধরে রাখা যায় না। ক্রমাগত স্ক্রিন-টাইম ও দ্রুত ভিডিও-স্ক্রলিং মস্তিষ্ককে এমন অভ্যাসে ফেলতে পারে যা গভীর চিন্তা, স্থির মনোযোগ, ধীরে কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। মন এক গ্যাজেট থেকে আরেক গ্যাজেটে ছুটে বেড়ায়।
লক্ষণসমূহ
১।একটানা কাজ বা পড়াশোনা করতে মন বসে না।
২। ফোন বা স্ক্রিন ছাড়া মুহূর্তগুলো অসম্পূর্ণ মনে হওয়া।
৩।ঘুমের মান কমে যাওয়া, ঘুম ভাঙা বা সময় কমে যাওয়া।
৪। কথা বলার সময় মন অন্যদিকে চলে যাওয়া, দ্রুত বিরক্তি তৈরি হওয়া।
৫। সাধারণ কথায় মন খারাপ লাগা, থিতিয়ে থাকা কঠিন হওয়াএগুলো শুধু অস্থায়ী ‘একঘেয়েমিতা’ নয়।সঠিকভাবে না সামলে চললে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা ও সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারকারী কিশোর ও তরুণরা
একাধিক গ্যাজেটে একই সঙ্গে কাজ করা মানুষ
যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় কাটাচ্ছেএদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশের মধ্যে থাকে। অতিরিক্ত স্ক্রলিং ও বিভক্ত মনোযোগ পড়াশোনা ও কাজের মান কমিয়ে দিতে পারে, ঘুম ব্যাহত করে এবং মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ায়।প্রতিরোধের উপায়
স্ক্রিন-টাইম সীমিত করুন; ফোনের নোটিফিকেশন কমিয়ে দিন।
প্রতিদিন কিছু সময় ডিজিটাল-ফ্রি রাখুন; পড়াশোনা বা হাঁটা-চলা করুন।
ধ্যান, মাইন্ডফুলনেস বা শান্ত পরিবেশে থাকা মস্তিষ্ককে প্রশমিত করুন।
প্রযুক্তি ব্যবহার করুন কিন্তু নিয়ন্ত্রণে থাকুন, যেন আপনি প্রযুক্তির বন্দি না হন।পপকর্ন ব্রেন এখনো কোনো চিকিৎসাজনিত রোগ নয়, তবে এটি ডিজিটাল যুগের নতুন মানসিক চ্যালেঞ্জ। আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে চিন্তা এবং মানসিক বিশ্রামের জন্য তৈরি। যখন আমরা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকি, ধীরে ধীরে সেই ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। তাই শুধু প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা নয়, সচেতন ব্যবহারই এই সমস্যার মূল সমাধান।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..