বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শরীরের যেকোনো অংশে এই রোগ হানা দিতে পারে। তবে সম্প্রতি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সরের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, অন্য অনেক ক্যান্সারের তুলনায় অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্তের হার এখন বেশি।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা কঠিন। উপসর্গগুলো স্পষ্ট না হওয়ায় রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ার পর তা ধরা পড়ে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হওয়া জরুরি। চলুন, জেনে নিই কোন লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পেটের উপরিভাগে তীব্র ব্যথা
অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ পেটের ওপরের অংশে অসহ্য যন্ত্রণা। খাওয়ার পর বা শোয়ার সময় এই ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে ব্যথা পেট থেকে পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘন ঘন জন্ডিস
প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই বারবার জন্ডিসে আক্রান্ত হন।তাই যদি দেখতে পান, চোখ-চামড়া হলদে হয়ে যাচ্ছে এবং এই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে, তাহলে তাকে অবহেলা করা যাবে না।
হজমের সমস্যা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
ঘন ঘন বদহজম, ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘদিন জ্বর বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি; এই উপসর্গগুলোও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের পূর্বাভাস হতে পারে।
ওষুধেও কাজ না করা, বদহজম
খাবারে সামান্য অনিয়ম হলেই হজমের সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি নিয়মিত ওষুধ খেয়েও বদহজমের সমস্যা থেকে যায় এবং ঘন ঘন ফিরে আসে, তাহলে তা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।
ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো ব্যথা
চিরস্থায়ী অগ্ন্যাশয় প্রদাহ (ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস) হলে পেটের উপরিভাগে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
যা পিঠের শিরদাঁড়া বা বুকের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যথার সঙ্গে বমি হওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।
কী করবেন?
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতা এই মারাত্মক ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..