ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গেণ্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় গত ১৭ অক্টোবর বিকালে এ ঘটনা ঘটে বলে তার ফেসবুক পেজের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ইশরাকের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। পর দিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। গত ২০ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইশরাকের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।
উত্তরে ইশরাক হোসেন বলেন, দেখুন, বিশ্লেষক বা বিশেষজ্ঞরা তাদের নিজস্ব বিচার-বিবেচনা ও বিশেষ জ্ঞান থেকেই এমন মন্তব্য বা বিশ্লেষণ করে থাকেন। সেটিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; তারা নিশ্চয়ই কোনো ভিত্তি ছাড়া কথা বলেন না। তবে আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই- আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার যে প্রয়াসই চলুক না কেন, তা কোনোভাবেই সফলতা পাবে না। প্রধানমন্ত্রী আমার সব কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্ণ সচেতন ও অবগত। দলে হাজার হাজার নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও তিনি সব সময় আমাকে বিশেষ স্নেহ ও আস্থার চোখে দেখেছেন। তাই দলের ভেতর কিংবা বাইরে-যে যেখান থেকেই আমাকে দুর্বল বা প্রতিবন্ধকতায় ফেলার চেষ্টা করুক না কেন, তা মোকাবিলা করার জন্য আমার পূর্ণ রাজনৈতিক ও মানসিক প্রস্তুতি রয়েছে।
রাজনীতিতে নিজের বড় ভুলের বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষ হিসাবে সবারই ছোটখাটো ভুলত্রুটি হতে পারে। তবে সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি স্পষ্ট করতে চাই-সেখানে আমি বিন্দুমাত্র কোনো ভুল করিনি। এটি আমি প্রধানমন্ত্রীর সামনেও মাথা উঁচু করে বলে এসেছি। এলাকা থেকে মাদক নির্মূলের অংশ হিসাবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে আত্মরক্ষার্থে আমার লাইসেন্স করা অস্ত্রটি কিছু সময়ের জন্য প্রদর্শন করেছিলাম, যা পরে আবার যথাযথভাবে সুরক্ষিত (কনসিলড) অবস্থায় রাখা হয়। এখানে এক সেকেন্ডের জন্যও আমি কোনো অন্যায় বা ভুল করিনি এবং আমৃত্যু আমি এ অবস্থানেই অটল থাকব। তবে অতীতের সামগ্রিক রাজনীতিতে পরিস্থিতি বা বক্তব্যের কারণে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে; কারণ ভুলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো অন্ধ পরামর্শ বা কাছের মানুষের কথায় রাজনীতি করি না। আমি অনেকের মতামত শুনি, যা ইতিবাচক ও কৌশলগতভাবে কার্যকর মনে হয় তা গ্রহণ করি। কিন্তু দিনশেষে সিদ্ধান্ত আমার নিজের। কারণ যে কোনো কাজের চূড়ান্ত দায়দায়িত্ব ও পরিণতি আমার ওপরই বর্তায় এবং আমি সেই দায়ভার নিতে সর্বদা প্রস্তুত। কারও অসৎ প্ররোচনা বা ভুল পরামর্শে আমি কখনো পরিচালিত হইনি; বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল নিজস্ব।