রাজধানীর আভিজাত কিছু এলাকায় গড়ে ওঠা অনেক ভবনে সেপটিক ট্যাংক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারার লেক এবং হাতিরঝিল লেক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছয়বার আমাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। কিভাবে আমরা পরিবেশটাকে ঠিক করতে পারি? সেখানে উচ্চবিত্ত বা ধনী মানুষদের বসবাস, ৪ হাজার ৩০০ বাড়িঘর আছে। এর মধ্যে বোধহয় ৭০ থেকে ৮০ শাতংশ বাড়িঘরে প্ল্যানিংয়ের সময় যে সেপটিক ট্যাংক থাকার কথা ছিল, সোকওয়েল থাকার কথা ছিল তারা সেগুলো করেনি। নামিদামি ডেভেলপাররা বিল্ডিং করে আসছেন, কিন্তু তারা বর্জ্য পরিশোধনের জন্য এসটিপিতে যাননি। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সচেতন করতে। এ নিয়ে গুলশান, বনানী, বারিধারা সোসাইটির সঙ্গে তিন থেকে চারবার মিটিং করেছি।
এ নিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা ওয়াসার এমডির সঙ্গে মিটিং করা হয়েছে। আমি বলেছি, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। গুলশান, বারিধারা আমাদের ডিস্টিংগুইশড এরিয়া; সেখানকার লেকের পানিই যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, সারা বাংলাদেশ কিভাবে ঠিক করব?
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আমি বলতে পারি যে আমাদের চেষ্টা আছে। প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সরকার অত্যন্ত রিসেপ্টেভ। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার আপনাদের যেকোনো আইডিয়া দেশের মঙ্গলের জন্য গ্রহণ করতে রাজি। আমাদের সহায়তা করুন। যেকোনো পারমর্শ দিলে যদি আমরা দরকারি মনে করি তাহলে অবশ্যই অ্যাডাপ্ট করব।
তিনি জানান, অনেকগুলো কাজ হচ্ছে। রাজউকের মতো আমরা নতুন আরো ছয়টা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি করেছি গত সাত মাসে। তার মধ্যে আছে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশাল। এর আগে আরো চারটা ছিল। আমরা পর্যায়ক্রমে বগুড়া নিয়ে কাজ করছি। ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে দেখা যায় সিটি করপোরেশনই প্ল্যান দিচ্ছে, তারাই করছে। সেখানে চেক অ্যান্ড ব্যালান্সটা থাকে না। আমাদের ঢাকা শহরেই অনেক জায়গা আছে, যেমন বছিলা। অনেক ইউনিয়ন থেকে প্ল্যান পাস করা হয়েছে। এগুলোকে আমরা একটা সামগ্রিক আইনি কাঠামোয় আনার চেষ্টা করছি। যারা অলরেডি প্ল্যান ছাড়া বিল্ডিং করেছেন বা প্ল্যান নিয়ে সেটা ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, সেটার জন্য একটা বিধিমালা তৈরি করছি। মাসখানেকের মধ্যেই হয়তো মন্ত্রিসভায় উঠবে। এটি পাস হলে সুপারভিশন আইনটাকে আরো শক্তিশালী করতে পারব।
প্রাইভেট সেক্টর থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মর্টগেজ নিয়ে কথা হয়েছে। সত্যিকার অর্থেই যদি মাস লেভেলে আমরা গৃহায়ণ করতে চাই তাহলে ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউট একটা বিরাট ফ্যাক্টর হবে। বেশির ভাগ উন্নত দেশে ৩০ বছরের জন্য মর্টগেজ পাওয়া যায়। সে ধরনের সুবিধা ছাড়া মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তের জন্য আবাসন তৈরি করা কঠিন। এ ধরনের কোনো আয়োজনে যদি প্রাইভেট সেক্টর থেকে এগিয়ে আসেন, সেখানে সহযোগিতা করতে সরকার ও আমাদের চেষ্টা থাকবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে আবাসন খাতে নীতিমালায় বেশ সমস্যা ছিল। আমরা সেটা নিয়ে যথেষ্ট আলাপ-আলোচনা এবং সবার সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন নীতিমালা করেছি। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাইভেট সেক্টরে আবাসন পাস করতে হলে যেটা দেওয়া হয়েছে, সেটার মধ্যে থেকেই করতে হবে। আগের কাজটি ঠিকমতো হয়েছে কিনা সেটার ওপর নির্ভর করেই নতুন প্ল্যান পাস হবে। চেষ্টা করছি তাদেরও আইনি কাঠামোয় আনতে, যাতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ না হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, বাসযোগ্য ১৭৩টা শহরের মধ্যে ১৭১তম অবস্থানে আছে ঢাকা। এ শহরের উন্নতিতে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। কিন্তু এটাও বাস্তবতা যে আমরা সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটা শহরে আছি। যথাযথ পরিকল্পনা এবং সব খাতের অবদান ছাড়া সে চেষ্টা সফল করা অত্যন্ত কঠিন। বলতে সহজ কিন্তু বাস্তবে করা অনেক কঠিন।
তিনি জানান, গত ৫ তারিখে বসতি দিবস ছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন, সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে অতটা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে যেন আমরা আরো সুস্থভাবে ও পরিবেশ রক্ষা করে আবাসন নীতিমালা তৈরি করতে পারি। জনগণের জন্য আরো ভালো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা যদি সচেতন হই, সবার চিন্তায় পরিবর্তন আনতে পারি এবং অবদান রাখতে পারি, তাহলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।