২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইন্স।প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্বাধীনতার পর কোনো বেসরকারি এয়ারলাইন্স ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট দিয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেনি।
বর্তমানে ইউএস-বাংলা দেশের ৬টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
তিনি জানান, আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি হোটেলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
বহরে যুক্ত হবে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ
বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৭ সালের মধ্যে আমাদের বহরে ২১টি ব্র্যান্ড নিউ এয়ারক্রাফট যুক্ত হবে। আন্তর্জাতিক রুটেও আমরা নতুন এয়ারক্রাফট পরিচালনা করব।’
এসময় বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স মানেই পুরনো বিমান—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বহরের গড় বয়স প্রায় ১০ বছর, যা আন্তর্জাতিক মানের। অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স মানেই পুরনো বিমান—এটা সঠিক নয়।’
আধুনিক সেবা ও বিনামূল্যে ইন্টারনেট
নতুন উড়োজাহাজে আধুনিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, ইন-ফ্লাইট ইন্টারনেট এবং প্রতিটি সিটে চার্জিং সুবিধা থাকবে। ৩০ হাজার ফিট উঁচুতেও আমরা যাত্রীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।’
বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রা মিলিয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৯৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিকসহ মাসে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি।
নতুন রুট ও পাইলট প্রশিক্ষণ
চেন্নাই রুট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চেন্নাই রুটটি মূলত চিকিৎসার জন্য চালু করা হয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি ব্লেসিং ফ্লাইট হয়ে উঠেছে।’
মালদ্বীপ রুট নিয়েও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাড়া কমানোর ফলে প্রবাসীরা এখন সহজে দেশে ফিরতে পারছেন।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দাম্মাম ও মদিনায় ফ্লাইট চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হলে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফ্লাইট শুরু করব।’
মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ৫০ জন তরুণকে বিদেশে পাইলট প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছি, ভবিষ্যতে আরো ২০০ জনকে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
এভিয়েশন খাতে নীতিগত সহায়তা পেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ আরো বাড়বে বলেও মনে করেন ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।