
বোডো আর গ্লিমট নামের মাঝে স্ল্যাশ বা অবলিক (/) চিহ্নের কারণেও ক্লাবটিকে নিয়ে অনেকের কৌতূহল জেগেছে। ক্লাবটির নামের এই ইতিহাস বেশ মজার।
বোডো/গ্লিমটের ঠিকানা আর্কটিক সার্কেলের ঠিক উত্তরে অবস্থিত বোডো উপদ্বীপের ভেস্টফিয়র্ডেন ও সাল্টফিয়র্ডেনের মাঝামাঝি এলাকায়। শহরের জনসংখ্যা মাত্র ৪৩ হাজার। স্থানীয় উচ্চারণে ‘বোডো’ শব্দটি অনেকটা ‘বুদ্দাহ’-এর মতো শোনায়।
বোডো/গ্লিমটের ঘরের মাঠ অ্যাসপমিরা স্টেডিয়াম। ১৯৬৬ সালে স্টেডিয়ামটি চালু হওয়ার পর থেকেই এটি তাদের মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে স্টেডিয়ামটির ডাকনাম ‘হেল অব আইস’ বা ‘বরফের নরক’। স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮ হাজার ৩০০।

নরওয়ের শীর্ষ ফুটবল লিগ এলিটসেরিয়েনে খেলে বোডো/গ্লিমট। সর্বশেষ ছয় মৌসুমে চারবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এবারের লিগেও আছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে।
গত ৪ মের পর থেকে আর কোনো ম্যাচ হারেনি বোডো/গ্লিমট। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১৭ ম্যাচে অপরাজিত তারা।
সবচেয়ে বড় কথা, বোডো/গ্লিমট ইউরোপীয় ফুটবলে এত বড় সাফল্য পেয়েছে কোনো তারকা ফুটবলার ছাড়াই! ক্লাবটিতে কোনো বিদেশি খেলোয়াড়ও নেই।
দলে একমাত্র বিদেশি ছিলেন নিকিতা হাইকিন। ৩১ বছর বয়সী এই গোলকিপারের জন্ম ইসরায়েলে। তবে বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলেছেন রাশিয়ান হয়ে। সম্প্রতি তিনিও নরওয়ের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দলটির প্রধান কোচ শেতিল ক্নুৎসেন। তিনিসহ কোচিং স্টাফের সব সদস্যই নরওয়েজিয়ান।
নামের সঙ্গে মিল রেখে বোডো/গ্লিমট এবারো ইউরোপীয় মঞ্চে ঝলক দেখাতে বা দীপ্তি ছড়াতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।