আমাদের দেশের গ্রামগঞ্জেও পরিবারের সদস্যদের আদর করে নাম সংক্ষেপ করে ডাকার প্রবণতা দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ—কারো নাম আজিজ হলে অনেক ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে আদর করে আজু ডাকে। আবার কারো নাম নাজমা হলে বাড়ির লোকেরা তাকে আদর করে নাজু ডাকে।
আবার মহানবী (সা.) কখনো কখনো তাঁর স্ত্রীকে ভালোবেসে প্রশংসাসূচক নামেও ডেকেছেন। যেমন—তিনি মাঝে মাঝে আয়েশা (রা.)-কে ‘হুমায়রা’ বলে ডাকতেন। যার ভাবার্থ গভীর ভালোবাসার দৃষ্টিকোণ থেকে করলে লাল টুকটুকে সুন্দরী হতে পারে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এমন কী জিনিস আছে যা সংগ্রহে বাধা দেওয়া হালাল নয়? তিনি বলেন, পানি, লবণ ও আগুন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এই পানি সম্পর্কে তো আমরা জানি, কিন্তু লবণ ও আগুনের ব্যাপারে কেন বাধা দেওয়া যাবে না? তিনি বলেন, হে হুমায়রা! যে ব্যক্তি আগুন দান করল, সে যেন ওই আগুন দিয়ে রান্না করা সব খাদ্যই দান করল। যে ব্যক্তি লবণ দান করল, ওই লবণে খাদ্য যতটা সুস্বাদু হলো তা সবই যেন সে দান করল। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করাল, যেখানে তা সহজলভ্য, সে যেন একটি গোলামকে দাসত্বমুক্ত করল এবং যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে এমন স্থানে পানি পান করাল, যেখানে তা দুষ্প্রাপ্য, সে যেন তাকে জীবন দান করল। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)
আবার কখনো কখনো তিনি তাঁর স্ত্রীকে উপনামেও ডাকতেন। একবার আয়েশা (রা.) রাসুল (সা.)-কে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার সব স্ত্রীর উপনাম আছে, কিন্তু আমার নেই। তখন মহানবী (সা.) তাঁর নাম দেন উম্মে আব্দুল্লাহ। (সিলসিলাতুস সহিহাহ, মুসনাদে আহমদ)
তাই মুমিনের উচিত ইসলামের অন্যান্য বিধি-বিধান মেনে চলার পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর এসব সুন্নতও পালন করা। এতে এক দিকে যেমন সুন্নত পালনের সওয়াব পাওয়া যাবে, অন্যদিকে সংসারে সুখ-শান্তি বাড়বে। অন্তরে অন্য রকম প্রশান্তি আসবে।