যখন শরীরে ভিটামিন ডি-এর স্তর ২০ এনজি/এমএল থেকে কম হয়ে যায়, তখন শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব দেখা যায়।১২ এনজি/এমএল-এর নিচের স্তরে থাকলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা শুরু করা উচিত। অপরদিকে, ৩০ এনজি/এমএল-এর বেশি থাকাও ভালো নয়।
পিঠ, কোমর, নিতম্ব, পা বা পাঁজরে গভীর ব্যথা ভিটামিন ডি-এর অভাবে হতে পারে। এর অভাব হাড়কে দুর্বল ও নরম করে তুলতে পারে, যাকে অস্টিওম্যালেসিয়া বলা হয়।মেনোপজের পরে নারীদের হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেশি থাকে। এই ব্যথা প্রায়শই বার্ধক্যের কারণে হয়, তবে আসল কারণ হলো ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব।
ভিটামিন ডি মস্তিষ্কে সুখের হরমোন সেরোটোনিনকে ভারসাম্যপূর্ণ করে। এর অভাব বিরক্তি, বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে অসুবিধার কারণ হতে পারে। অনিদ্রা এবং ঘন ঘন ঘুমের ব্যাঘাতও সাধারণ।সূর্যালোকের অভাব, রাতের শিফটে কাজ ও দূষণ এই সমস্যাটিকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ঘন ঘন সর্দি, কাশি অথবা ফ্লু ও অসুস্থতা থেকে দেরি করে সুস্থ হয়ে ওঠা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার লক্ষণ। কোথাও কেটে গেলে, তা সহজে সারতে চায় না। ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভোগা নারীদের সন্তানদেরও হাড় সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে।
অন্যান্য লক্ষণ
অতিরিক্ত চুল পড়া, ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ঘাম বা রক্তচাপ বৃদ্ধি, দাঁতে গর্ত বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, হাত ও পা কাঁপা, ত্বক হলদেটে হওয়া অথবা ক্ষিধে না পাওয়া। এসব লক্ষণ শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির দিকে ইঙ্গিত করে।
কী করা উচিত
প্রথমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা নির্ধারণের জন্য রক্ত পরীক্ষা করুন। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসারে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। প্রতিদিন দুপুরের রোদে ১০ থেকে ৩০ মিনিট হাত ও মুখ খোলা রেখে বসে থাকুন। এ ছাড়া খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, ফোর্টিফাইড দুধ, দই ও পনির অন্তর্ভুক্ত করুন।