ইফতারের টেবিলে আমাদের প্রথম পছন্দ থাকে পেঁয়াজু, বেগুনি বা আলুর চপের মতো তেলে ভাজা খাবার। বছরের পর বছর ধরে এই ঐতিহ্য চলে আসলেও, দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর এসব ভারি খাবার শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ফলে ইফতারের পরপরই ক্লান্তি ও আলস্য ভর করে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে ইফতারের মেন্যুতে পরিবর্তনের সময় এসেছে।
সারাদিন পানিশূন্য থাকার পর শরীর চায় হালকা ও পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার। সালাদ একদিকে যেমন শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে, অন্যদিকে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ইফতার সালাদ দিয়ে শুরু করলে শরীর দ্রুত সতেজ হয় এবং হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। অনেকেই সালাদকে বোরিং খাবার মনে করেন।তবে কিছু সহজ উপাদানে এটিকে করে তোলা যায় রেস্টুরেন্টের মতো আকর্ষণীয়। চলুন, জেনে নিই।
১। প্রোটিনের ব্যবহার: সালাদে সেদ্ধ ছোলা, সেদ্ধ মুরগির টুকরো বা ডিম যোগ করলে এটি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
২। ফল: আপেল, নাশপাতি, খেজুর বা ড্রাগন ফলের সাথে সামান্য চাট মশলা বা মধু মিশিয়ে তৈরি করুন ফ্রুট সালাদ।
৩। বাদামের পুষ্টি: কাজুবাদাম, কাঠবাদাম বা চিনাবাদাম যোগ করলে সালাদে একটা মুচমুচে ভাব আসে, যা খেতে দারুণ লাগে।
৪।ড্রেসিং: সামান্য অলিভ অয়েল, লেবুর রস, কুচি করা রসুন বা টক দই দিয়ে তৈরি ড্রেসিং সাধারণ সালাদকেও অনন্য করে তোলে।
৫। চিয়া সিড: ফাইবারের চাহিদা মেটাতে সালাদে চিয়া সিড ব্যবহার করতে পারেন, যা শরীরকে দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখবে।ইফতারের টেবিল থেকে ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে জিলাপি বা হালিমের পরিমাণ কমিয়ে প্লেটের অর্ধেকটা সালাদ দিয়ে সাজানোই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। এটি হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে এবং ইফতার পরবর্তী ক্লান্তি দূর করতে টনিকের মতো কাজ করবে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..