বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য একাধিক হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শাবান মাসের মধ্যরাত আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। মুআয ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
এ রাতের মূল শিক্ষা
শবে বরাতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি। এটি কোনো উৎসবের রাত নয়, বরং আত্মসমালোচনা, তাওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার রাত। এখানে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামায বা নির্ধারিত রাক‘আতের বিধান নেই। বরং যে আমল মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়—সেগুলিই এ রাতে বেশি গুরুত্ব পায়।
নফল ইবাদত: একাকি হওয়াই উত্তম
ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী নফল ইবাদত গোপনে ও একাকী করাই উত্তম। ফরয নামায অবশ্যই জামাআতের সঙ্গে আদায়যোগ্য, কিন্তু নফল আমলের ক্ষেত্রে সমবেত আয়োজন, উচ্চস্বরে যিকির বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির কোনো প্রমাণ নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগেও এ ধরনের সমষ্টিগত নফল আমলের প্রচলন ছিল না। তবে অলসতার আশঙ্কায় কেউ মসজিদে এসে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করলে তাতে দোষ নেই।
যারা এ রাতেও ক্ষমা থেকে বঞ্চিত
হাদিসের আলোকে জানা যায় যে, কিছু মানুষ এই ব্যাপক ক্ষমার রাতেও বঞ্চিত থাকে, যতক্ষণ না তারা তাওবা করে ফিরে আসে। এর মধ্যে রয়েছে—মুশরিক, হিংসুক, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য, মদ্যপায়ী এবং অন্যায় হত্যায় লিপ্ত ব্যক্তি। এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা—ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্র ও সামাজিক সম্পর্ক সংশোধনও অপরিহার্য।
শবে বরাতে বর্জনীয় বিষয়
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কিছু কুসংস্কার ও অনৈসলামিক চর্চা সমাজে প্রচলিত হয়েছে। যেমন আতশবাজি ফোটানো, আলোকসজ্জা, বিশেষ খাবার রান্নাকে ইবাদতের অংশ মনে করা ইত্যাদি। এগুলোর কোনোটি হাদিস বা সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং এগুলো অপচয়, অনুকরণ ও ইবাদতের পরিবেশ বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শবে বরাত আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ—নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার, আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং বিদ্বেষ ও গুনাহের বোঝা নামিয়ে রাখার। এই রাতের মর্যাদা রক্ষা মানে—অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে আন্তরিক ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এ বরকতপূর্ণ রাতের যথাযথ মূল্যায়ন করার এবং তাঁর ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমীন।