শুধু দোয়া নয়, মায়ের আদর্শিক জীবনযাপনও সন্তানের জন্য শক্তিশালী শিক্ষার মাধ্যম। শিশু প্রথমে শোনে না, দেখে; সে মায়ের নামাজ দেখে, কথা বলার ভঙ্গি দেখে, রাগ নিয়ন্ত্রণ দেখে, আল্লাহর ওপর ভরসা দেখতে পায়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, ‘শিশুর অন্তর কাঁচা মাটির মতো, যা প্রথমে তাতে আঁকা হয়, সেটাই স্থায়ী হয়ে যায়।’ (তুহফাতুল মাওদূদ)
একজন মা যদি সত্যবাদিতা, ধৈর্য, লজ্জাশীলতা ও আল্লাহভীতিকে নিজের জীবনে ধারণ করেন; তা সন্তানকে আলাদা করে শেখাতে হয় না। আদর্শ নিজেই শিক্ষা হয়ে ওঠে।
আমরা ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই, ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-এর মাতা কিভাবে দারিদ্র্যের মধ্যেও ছেলেকে ইলমের পথে অবিচল রেখেছিলেন। ইমাম বুখারি (রহ.)-এর মায়ের দোয়ার বরকতেই কিভাবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে এসেছিল। এগুলো কোনো রূপক কথা নয়, বরং প্রামাণ্য ইতিহাস।
আজকের মা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ডিজিটাল আসক্তি, নৈতিক অবক্ষয়, সময়ের স্বল্পতা—সব কিছুর ভেতর দিয়ে তাকে সন্তান গড়তে হচ্ছে। কিন্তু এখানেও ইসলাম তাকে অসহায় রাখেনি, বরং প্রতিটি ধৈর্য, প্রতিটি নীরব কষ্টকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে।
এক ব্যক্তি কঠোর পরিশ্রম করছিল; তাকে দেখে সাহাবারা বললেন, ‘আহা! যদি এটা আল্লাহর পথে হতো!’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘যদি সে তার ছোট সন্তানদের জন্য পরিশ্রম করে, তবে সে আল্লাহর পথেই আছে। আর যদি সে তার বৃদ্ধ মাতা-পিতার জন্য পরিশ্রম করে, তবে সে-ও আল্লাহর পথেই আছে।’ (সিলসিলা সহিহা : ২/৫৩৮)আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে আজ প্রয়োজন মায়ের দোয়া ও আদর্শকে ‘অদৃশ্য বিষয়’ ভেবে অবহেলা না করা। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার—সর্বস্তরে মাকে সম্মান, সময় ও মানসিক নিরাপত্তা দেওয়া। কারণ একজন আলোকিত মা মানে একটি আলোকিত প্রজন্ম।
একজন মা হয়তো আলোচনার মঞ্চে নেই, ইতিহাসের শিরোনামেও নেই; কিন্তু তার সিজদার ভেতর লুকিয়ে থাকে জাতির ভবিষ্যৎ।সন্তান মানুষ হবে কী হারাবে; এর অনেকটাই নির্ধারিত হয় সেই নিঃশব্দ দোয়াগুলোতে, যা কেউ শোনে না, শুধু আল্লাহ শোনেন।