গত কয়েক বছরে মাহাথিরকে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এ কারণে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাড়িতে পড়ে গিয়ে তার ডান নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তিনি প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বয়সের কারণে চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন। জুলাইয়ে নিজের ১০০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন মাহাথির। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তিনি প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ছিলেন। মাহাথিরের দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে। ১৯৮৯ ও ২০০৭ সালে তার দুটি বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়। এদিকে স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর মাহাথিরকে নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তার স্ত্রীর মৃত্যুতে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক জানিয়েছেন।নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ছোট ভিডিওতে পাহাংয়ের সুলতান আবদুল্লাহ আহমদ শাহের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মাহাথিরকে। এ সময় স্ত্রীর মৃত্যুতে নিজের কষ্ট ও অবিশ্বাসের কথা জানান তিনি। মাহাথির বলেন, ‘আজ তাকে হারাব, তা আমি ভাবিনি।’ মাহাথির দীর্ঘদিন ধরে মালয় জাতীয়তাবাদের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা।
১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মাহাথির মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনেন। তার সময়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশটি শিল্প ও উৎপাদন খাতে এগিয়ে যায়। এ সময় দেশজুড়ে বড় বড় সড়ক নির্মাণ এবং শিল্প খাতের উন্নয়ন হয়।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এশিয়ার আর্থিক সংকটের সময়ও মাহাথিরের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত আলোচিত হয়। সে সময় তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ না নিয়ে দেশটির মুদ্রা রিঙ্গিতের বিনিময় হার মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট করে দেন।
তার সমর্থকেরা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে সংকট থেকে বের হতে সাহায্য করেছিল। তবে মাহাথিরের শাসন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিরোধীদের দমন করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বহুদিনের। ১৯৮৭ সালের ‘অপারেশন লালাং’-এর সময় শতাধিক বিরোধী রাজনীতিক, কর্মী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। সরকারের সমালোচকদের দমন করতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে সমালোচকেরা দাবি করেন।