বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ না কেউ রয়েছেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি রান্নার তেল নির্বাচনের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি। কারণ, তেল আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা এবং শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।
কেন তেল গুরুত্বপূর্ণ?
রান্নার তেলে থাকা ফ্যাট আমাদের শরীরে শুধু শক্তি দেয় না, বরং ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শোষণেও সাহায্য করে।এ ছাড়া ফ্যাট হরমোন নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য, হৃদ্রোগ প্রতিরোধ এবং স্মৃতিশক্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
ওমেগা-৩ বনাম ওমেগা-৬
তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমায় ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ওমেগা-৬ শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ তেল বেছে নেওয়া ভালো।
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযুক্ত কিছু স্বাস্থ্যকর তেল:
রাইস ব্র্যান অয়েল – যা খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সরিষার তেল – ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ সমৃদ্ধ যা প্রদাহ কমায়, রক্তে শর্করাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তিলের তেল – ভিটামিন ই ও লিগনান সমৃদ্ধ। যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।
নারিকেল তেল – ক্ষুধা কমায়, চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। ওজন কমাতে সহায়ক। ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে
চিনাবাদাম তেল – ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক
সূর্যমুখী তেল – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
খাঁটি ঘি (স্বল্প পরিমাণে) – উপকারী ফ্যাট সরবরাহ করে। তবে বাজারজাত, কমদামি ঘি বা মার্জারিন এড়ানো উচিতযেসব তেল এড়ানো উচিত: পাম অয়েল, সয়াবিন অয়েল, কর্ন অয়েল।এগুলো শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর তেল বেছে নিলেও পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত তেল ও ফ্যাট ব্যবহারে ওজন বাড়তে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য শুধু সঠিক খাবার নয়, সঠিক তেল বাছাইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তেল ও পরিমাণমতো ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শরীরকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..