পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি এমন একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছেন, যা নিত্যদিনের চাপ মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘কমিউনিকেশনস সাইকোলজি’ জার্নালে।
যেদিন মানুষ মনে করেছে তারা স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, সেদিন তারা সমস্যার সমাধানে ৬২% বেশি পদক্ষেপ নিয়েছে—যেমন প্লাম্বারকে ফোন করা কিংবা কঠিন কোনো কথোপকথনে বসা। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রভাব আরো বেশি কার্যকর হয়েছে।
গবেষণা কিভাবে হলো
গবেষকরা দেখতে চেয়েছিলেন—দৈনন্দিন চাপ নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি আসলেই চাপ কমাতে সাহায্য করে কি না।
গবেষণার প্রধান লেখক ডাকোটা উইটজেল প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যদি চাপ নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি চাপ কমাতে সহায়তা করে, তবে কি আমরা এটিকে একটি পরিবর্তনযোগ্য উপাদান হিসেবে কাজে লাগাতে পারি—যাতে চাপ কমে এবং সেই সঙ্গে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুস্থতাও উন্নত হয়?’
এ জন্য ১,৭০০ জন অংশগ্রহণকারীকে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা কী ধরনের স্ট্রেস অনুভব করেছেন এবং দিনের শেষে তা সমাধান হয়েছে কি না।
ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণার শুরুতে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি থাকলে অংশগ্রহণকারীরা ৬১% ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করতে পেরেছেন। ১০ বছর পর একই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫%।
প্রধান গবেষক ডাকোটা উইটজেল বলেন, ‘আমাদের বয়স যত বাড়ে, ততই আমাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ে এবং সেই নিয়ন্ত্রণ আমাদের চাপ মোকাবিলায় আরো দক্ষ করে তোলে।’
আশার আলো
গবেষক আলমেইদা বলেন, ‘সুখবর হলো দৈনন্দিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী কিছু নয়। এটি বাস্তব কৌশলের মাধ্যমে শক্তিশালী করা যায়। যেমন—অগ্রাধিকার ঠিক করা, বা নিজের নাগালের ভেতরের বিষয়গুলোকে নতুনভাবে দেখা। আমাদের ভাবতে হবে, কিভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করা যায়, যাতে মানুষ আরো বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকার অনুভূতি পায়।’
উইটজেল আরো বলেন, ‘এই গবেষণায় আমরা দৈনন্দিন ছোটখাটো চাপ নিয়ে কথা বলেছি, তবে দীর্ঘমেয়াদি চাপ বা ক্রনিক স্ট্রেসের ক্ষেত্রেও সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। স্ট্রেস রেজ্যুলেশন দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমানোর একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে—এটা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণার ক্ষেত্র।’