যুক্তরাষ্ট্রভিওিক সমাজকর্ম গবেষক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী ও স্কুল অব লিভারশিপের প্রেসিডেন্ট গোলাম রাব্বানী নয়ন বাংগালী বলেছেন, ‘জাতিসংঘের এই অধিবেশনে দেশের একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যোগ দিয়েছেন।
তিনি শুধু একটি দলেরই মহাসচিব নন, বরং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অভিভাবক হিসেবে পাশে ছিলেন। তার মর্যাদা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দিয়ে মাপা যাবে না। কাজেই এই অন্তর্বর্তী সরকারের যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করার প্রয়োজন ছিল যে, আমরা যে সফরসঙ্গী করে নিচ্ছি তাকে কোন মর্যাদায় বা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করব।নয়ন বাংগালী বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমলে দেশের মধ্যে কোনো বড় নেতাই সক্রিয় ছিলেন না। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অসুস্থ ও গৃহবন্দি, তারেক রহমান নির্বাসিত। এত বাধা-বিপত্তির মাঝেও সক্রিয় ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’তিনি আরো বলেন, ‘১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে নির্মিত জাতিসংঘের সদর দপ্তর কমপ্লেক্সটি জাতিসংঘের মালিকানাধীন এবং এটিকে আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এবারের অধিবেশনে ২৩ সেপ্টেম্বর উচ্চস্তরের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়, এটিই মূল অনুষ্ঠান যেখানে বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগে বক্তৃতা দেন এবং এসব জায়গায় রাষ্ট্রপ্রধানরাই বক্তব্য রাখেন। এখানে নির্ধারিত বক্তারা বক্তব্য না দেওয়া পর্যন্ত সভা চলতে থাকে। এমন অধিবেশনে যাকে-তাকে এনে ফিট করা যায় না।এখানে কারা অংশ নেবেন তার অধিকাংশই সরকারসংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও জাতিসংঘে নিয়োজিত ডিপ্লোম্যাটদের কাজ।’ তিনি বলেন, ‘বলতে পারেন আরো তো পাঁচজন রাজনৈতিক দলের নেতারা গিয়েছেন। হ্যাঁ, তারা এসেছেন। কিন্তু এখন তাদের মাত্র শেখার সময়, দেখার সময়, তারা সবাই রাজনীতিতে নবাগত। এমনকি জামায়াতের নায়েবে আমিরও অতিতে মন্ত্রী ছিলেন না, সরকারের দায়িত্বে ছিলেন না।কিন্তু মির্জা সাহেব তো সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া দলের ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অতীতে ছিলেন। নতুন রাজনীতি যারা করছেন তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে যদি অংশ নেন, তাতেও তাদের লাভ।’হয়তো অনেকেই বলবেন তাহলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন গেলেন? আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে দেশের সবচেয়ে পরিশীলিত ও মার্জিত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি সমাদৃত। তিনি কাউকে ছোট করেন না, কাউকে অপমান করে কথা বলেন না, এমনকি কারো মনে কষ্ট দেয়—এমন আচরণও করেন না। তাই সরকারপ্রধান যখন তাকে প্রস্তাব করেছেন, তখন তিনি ভদ্রতা দেখিয়েছেন। তবু মির্জা ফখরুলকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মাঝে পড়তে হলো উল্লেখ করে নয়ন বাংগালী বলেন, ‘তিনি স্বাভাবিকভাবেই ভেবেছেন যে সরকার তার প্রটোকল ঠিক রেখেছে বা সরকারপ্রধান তাকে পাশে নিয়েই বের হবেন। অনেকেই বলছেন, রাষ্ট্রপ্রধান ভিন্ন লাইন বা ভিন্ন পাসপোর্টে বের হয়েছেন ইমিগ্রেশন দিয়ে। তাহলেও ইমিগ্রেশন পার হয়ে তো থামা যেত, জিজ্ঞেস করা যেত যে মির্জা ফখরুল কোথায় আছেন, তাকে পাশে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বের হতে পারতেন।’‘আমি মনে করি এই ব্যর্থতার দায় কোনোভাবেই ড. ইউনূস সরকার এড়াতে পারবে না। আমি রাজনীতির স্কুলের সঙ্গে কাজ করা মানুষ। একজন মাঠ রাজনীতির সংগঠক হিসেবে কোনো রাজনীতিবিদের অপমান সহ্য করতে পারি না’, যোগ করেন তিনি।







