তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন, ভোট রাতের পরিবর্তে দিনে হবে এবং মৃত মানুষ ভোট দিতে পারবেন না। দেশ গণতান্ত্রিক মহাসড়কে হাঁটা শুরু করেছে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরো উল্লেখ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় দিয়েছেন। তবে এটি কার্যকর হবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনরুদ্ধার (NPCG)
এই রায়ের ফলে, সংবিধানের চতুর্দশ খণ্ডের ২-এ অধ্যায়, যা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত, সেটি সক্রিয় ও পুনরুজ্জীবিত হলো।
কার্যকারিতা শুরু হওয়ার শর্ত
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার এই পুনরুদ্ধার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটলেও, এর কার্যক্রম কিন্তু শর্তসাপেক্ষ। এটি তখনই কার্যকর হবে, যখন পুনরুজ্জীবিত ৫৮খ(১) এবং ৫৮গ(২) অনুচ্ছেদগুলোর বিধানগুলো কার্যকর করা হবে।
ভবিষ্যতের জন্য প্রযোজ্যতা
এই আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে, পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিত হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানগুলো শুধু ভবিষ্যৎ থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ অতীতের কোনো ঘটনার ওপর এই রায়ের সরাসরি প্রভাব পড়বে না, কিন্তু ভবিষ্যতের সব কিছুর জন্য এটি প্রযোজ্য হবে।
এর বিস্তারিত রায় বা পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা পরে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে তৎকালীন আপিল বিভাগ। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর জন্য নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট এ ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ জন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।