চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা মানেই প্রশ্ন একটাই—মানসিক চাপ চুল পড়ার কারণ, নাকি চুল পড়ার কারণেই মানসিক চাপ বাড়ে? এই বিতর্ক যেমন আছে, তেমনই চুল ঝরা কমানোর নানা ঘরোয়া উপায়ের দাবিও ঘুরে বেড়ায় সামাজিক মাধ্যমে। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হলো রোজমেরি অয়েল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজমেরিতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। এই উপাদানগুলো মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং স্ক্যাল্পের প্রদাহজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে স্ক্যাল্পের সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়, যা চুলের জন্য সহায়ক।
সম্ভবত এই কারণেই বর্তমান প্রজন্ম রাসায়নিক-নির্ভর ট্রিটমেন্টের বদলে প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে রোজমেরি অয়েলের দিকে বেশি ঝুঁকছে। যদিও এটি অলৌকিক কোনো সমাধান নয়, তবু নিয়মিত যত্নের অংশ হিসেবে স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে এর ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
চিকিৎসকরা কী বলছেন?
রোজমেরি অয়েল মাখলে যে নতুন চুল গজাবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। তবে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়ায় এই ভেষজের নির্যাস মিশ্রিত তেল দারুণ কাজ করে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই ধরনের চুল পড়ার সঙ্গে অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের যোগ রয়েছে। কোনো কারণে এই হরমোনের মাত্রা যদি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে, সে ক্ষেত্রে ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরনও (DHT) বেড়ে যায়। যার প্রভাবে হেয়ার ফলিকল সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে যায়। অর্থাৎ হেয়ার থিনিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়। নতুন চুল গজানোও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ওষুধের উপরই নির্ভর করেন। তবে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে রোজমেরিকে এখনই একেবারে বাতিলের তালিকায় ফেলে দিতেও বলছেন না তারা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ট্রিটমেন্টের পাশাপাশি কেউ যদি রোজমেরি অয়েল ব্যবহার করতে চান, তাতে কোনো সমস্যা নেই বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।