প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে পোস্টাল ব্যালট হাতে পেতে শুরু করেছেন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা নিজেদের আনন্দ, প্রত্যাশা ও মতামত প্রকাশ করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন মোট ৮ হাজার ৩৯৯ জন প্রবাসী বাংলাদেশি।দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবি আদায়ের পর প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নকে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়াকে চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের মতে, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বড় অর্জন হলো প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন।প্রবাসীদের মধ্যে জনমত গঠন, ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা–প্রচারণায় সংগঠনগুলো সরব ভূমিকা রাখছে।এনসিপি ফ্রান্স ডায়াস্পোরা কমিটির আহ্বায়ক ইফতেশাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রবাসী ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এনসিপি ফ্রান্স ডায়াস্পোরা কমিটি শুরু থেকেই অগ্রভাগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আমাদের সদস্যদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে আমরা কেবল সমর্থক নই, বরং নীতিনির্ধারণের অংশীদার। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী জনমত গঠন ও আন্তর্জাতিক সচেতনতা সৃষ্টিতে আমরা অপরিহার্য শক্তি হিসেবে কাজ করছি।ফ্রান্স বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট হাতে পেয়ে ফ্রান্সপ্রবাসী ভোটাররা দারুণভাবে উৎফুল্ল। বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপি বাংলাদেশের মাটিতে নির্যাতন ও নিপীড়ন সহ্য করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, ফ্রান্সপ্রবাসীরা আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপির এই ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে পোস্টাল ব্যালটের পরিবর্তে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রবাসী বিএনপি পরিবার জোরালো ভূমিকা রাখবে।’
অন্যদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফ্রান্সের বৃহৎ বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশি নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর।তিনি বলেন, ফ্রান্স নাগরিক পরিষদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার রেজিস্ট্রেশন ও সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান নেই।’
এই উপলব্ধি থেকেই সংগঠনটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।সংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা পাওয়ায় দেশের সঙ্গে প্রবাসীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। একই সঙ্গে এটি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..