আয়তন ও ধারণক্ষমতা
বর্তমানে মসজিদুল হারামের মোট আয়তন প্রায় ১০ লক্ষ বর্গমিটার।হজ ও উমরার মৌসুমে একসঙ্গে প্রায় ২০ লক্ষ মুসল্লির নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিবছর হজ ও উমরা মিলিয়ে প্রায় দুই কোটির বেশি মুসলমান এই পবিত্র মসজিদে আগমন করেন। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১৪ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মসজিদুল হারাম কখনো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি; এটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
মসজিদুল হারামের ব্যবস্থাপনা বিশ্বমানের।দৈনিক লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাগম সত্ত্বেও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ১,৭০০–১,৮০০ জন প্রশিক্ষিত পরিচ্ছন্নতা কর্মী। খোলা প্রাঙ্গণ ও ভেতরের অংশ পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয় আধুনিক ইলেকট্রিক ক্লিনিং মেশিন ও যানবাহন। মসজিদের ভেতরে ও আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে হাজারের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা। মুসল্লিদের আরাম ও নামাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন স্থানে কার্পেট বিছানো থাকে, যা নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিবর্তন করা হয়।
নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা
মসজিদুল হারামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত ও সুসংগঠিত। সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের আরামের জন্য স্থাপন করা হয়েছে শক্তিশালী এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম, যা প্রচণ্ড গরমেও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে। বিশেষভাবে নির্মিত মার্বেল মেঝে তাপ শোষণ ও প্রতিফলনের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শব্দব্যবস্থা ও সম্প্রচার প্রযুক্তি
মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ ও জটিল অডিও ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। হাজার হাজার স্পিকারের মাধ্যমে ইমামের কণ্ঠস্বর একই সময়ে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণে নিখুঁতভাবে পৌঁছে যায়। এ ব্যবস্থাপনা তদারকিতে থাকেন অভিজ্ঞ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল।
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মুসল্লিদের সুবিধা
প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক মুসল্লিদের জন্য মসজিদুল হারামে রয়েছে বিশেষ সুবিধা। বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য সাধারণ হুইলচেয়ার ছাড়াও আধুনিক ইলেকট্রিক ও স্বয়ংক্রিয় হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। র্যাম্প ও নির্দিষ্ট পথের মাধ্যমে তাঁদের চলাচল সহজ করা হয়েছে।
রমজান মাসের বিশেষ সেবা
রমজান মাসে মসজিদুল হারাম হয়ে ওঠে মানবসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ রোজাদারের জন্য বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হয়। নামাজের অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল নামাজের স্থান পরিষ্কার করে পুনরায় প্রস্তুত করা হয়, যা ব্যবস্থাপনার দক্ষতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
মসজিদুল হারাম তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, আবেগ ও আত্মিক সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু। ইবাদত, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও মানবসেবার এক অনুপম মেলবন্ধন হিসেবে এটি বিশ্বসভ্যতার সামনে ইসলামের সৌন্দর্য ও মহিমা তুলে ধরে।