ইসলামে দানশীলতা ও উদারতা মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা, অভাবগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিশেষ করে রমাজান মাসে এই দান-সদকার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। এ মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস; এ সময়ে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও রমাজানে দানশীলতার ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণিত হয়েছে—
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ وَأَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِيْ رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ وَكَانَ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَام يَلْقَاهُ فِيْ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
ইবনে ‘আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাপেক্ষা বেশি দানশীল ছিলেন। তাঁর দানশীলতা বহুগুণ বর্ধিত হত রমাজানের পবিত্র দিনে যখন জিবরাঈল (আঃ) তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন।
জিব্রাঈল (আ.) রমাজানের প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করে কোরআনের সবক দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ বণ্টনে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৩৫৫৪)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানশীলতার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা তাঁর মহৎ চরিত্রের এক অনন্য দিক প্রকাশ করে। তিনি স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত উদার ছিলেন, কিন্তু রমাজান মাসে তাঁর দানশীলতা আরো বৃদ্ধি পেত।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিবরাঈল (আ.)-এর সঙ্গে কোরআন পর্যালোচনার সময় তাঁর অন্তরে ইবাদতের স্পৃহা, আখিরাতের অনুভূতি এবং মানবকল্যাণের আগ্রহ আরও গভীর হয়ে উঠত। ফলে তিনি মানুষের উপকারে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠতেন।
হাদিসে তাঁর দানশীলতাকে ‘প্রবাহিত বাতাস’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, তাঁর দান ছিল দ্রুত, ব্যাপক এবং নিরবচ্ছিন্ন; তিনি কারো প্রয়োজন, পরিচয় বা অবস্থান বিচার করে দান করতেন না, বরং সবার কল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দিতেন।
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, রমাজান শুধু রোজা ও ইবাদতের মাস নয়, বরং সহানুভূতি, মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার মাস।
কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক যত গভীর হবে, ততই মানুষের অন্তরে দয়া, উদারতা ও পরোপকারের মানসিকতা বৃদ্ধি পাবে।
অতএব, একজন মুমিনের জন্য উচিত রমাজানকে দান-সদকা, যাকাত, অভাবীদের সহযোগিতা এবং মানুষের উপকারের মৌসুম হিসেবে গ্রহণ করা। কারণ প্রকৃত তাকওয়া শুধু ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর বান্দাদের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার মধ্যেই এর পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..