ফিলিস্তিনের অধিকৃত জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদে পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইসরায়েলি বাধা উপেক্ষা করে প্রায় এক লাখ ফিলিস্তিনি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত কালান্দিয়া চেকপয়েন্ট দিয়ে নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিদের কঠোর তল্লাশি করে ইসরায়েলি বাহিনী।
এর আগে রমজানের শুরুতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়ম করে, শুক্রবারের নামাজে শুধুমাত্র ১০ হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লির প্রবেশ করতে পারবে।সাধারণত অন্যান্য বছর রমজানের জুমার নামাজে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিত।ইসরায়েলি নিয়ম অনুসারে, পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুধুমাত্র ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারী এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশু একজন আত্মীয়সহ প্রবেশ করতে পারবে। আর দর্শনার্থীদের পশ্চিম তীরে ফেরার সময় ক্রসিংয়ে ডিজিটাল যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এদিকে বিধিনিষেধের পাশাপাশি, সম্প্রতি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২৮০ জেরুজালেমের বাসিন্দাকে আল-আকসা মসজিদের নামাজে অংশ নিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।তাদের মধ্যে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা আরো বৃদ্ধি পায়।হেবরন থেকে ভ্রমণে আসা নাজাতি ওয়ায়েদা তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেছেন, অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলি সৈন্যরা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দখলদাররা দাবি করে, এটি সুবিধা প্রদান করেছে, কিন্তু তাদের পদ্ধতিগুলো কঠোর।
আমি কেবল আল-আকসায় নামাজ পড়তে চাই। আমাকে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে?’৫৮ বছর বয়সী আলী নাওয়াস নামে আরেক ব্যক্তি সংবাদ সংস্থাকে জানান, তিনি ও তার স্ত্রী অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভ্রমণ করে এসেছেন। কিন্তু তার স্ত্রীর অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তাকে কালান্দিয়া চেকপয়েন্টে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে তার সাথে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। সে কীভাবে একা নাবলুসে ফিরে যেতে পারে?’
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..