তিন সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ। এ অংশ দিয়ে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের কঠিন দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে যদি সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। এ শঙ্কা পরিবহণ শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঈদের পূর্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দৃষ্টিগোচর হয়নি। ৮ লেনের মহাসড়কের এক অংশের অর্ধেক রাস্তাজুড়ে দখল করে ফুটপাথ ব্যবসা করছে মার্কেটের মালিক পক্ষ, রাজনৈতিক দলের নামধারী কর্মীরা। যার চাঁদা মার্কেটের মালিক এবং প্রশাসন ও রাজনতৈক দলের কর্মীরা পাচ্ছে।
এ চার কিলোমিটারের শিমরাইল মোড়ে রয়েছে অনেক খানাখন্দ বা গর্ত। এতে করে গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হয়। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। অপরদিকে মহাসড়কের ৪ কিলোমিটারের অংশের কয়েকটি ডিভাইডার রাস্তার ওপর কাত হয়ে পড়ে আছে। এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে না রাখায় দ্রুতগতির গাড়িগুলোকে হঠাৎ ধীর এবং সামান্য দিকবদল করতে গিয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতর কেন্দ্র করে আর ক‘দিন পরই নাড়ির টানে ছুটবে পূর্বাঞ্চলের ১৮ জেলার মানুষ। রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে তাদের যেতে হবে নিজ নিজ গন্তব্যে, স্বজনদের কাছে। সেই গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের পোহাতে হতে পারে অনেক দূর্ভোগ। কেননা এ মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনেবোর্ড থেকে কাঁচপুরব্রিজ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার জুুড়ে রয়েছে তিনটি প্রধান সমস্যা। যারমধ্যে একটি হচ্ছে আট লেনের এ মহাসড়কে দেওয়া রোড ডিভাইডার অনেকগুলো কাত হয়ে পড়ে আছে মহাসড়কের ওপর। অনেক জায়গায় ডিভাইডারগুলোর ছোট জায়গা ফাঁক রয়েছে। এতে করে ফাঁকা জায়গাগুলো দিয়ে অবাধে পারাপার করছেন পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। ফলে কাত হয়ে পড়ে থাকা ডিভাইরের কারণে ও পথচারী এবং রাস্তা ক্রসিং করতে যাওয়া মোটারসাইকেলের কারণে দ্রুতগতির বাস-ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে অনেক সময়। স্থানভেদে মহাসড়কটিতে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ যানবাহন তার চেয়ে বেশি গতিতে চলে। এমন পরিস্থিতিতে ডিভাইডারের খোলা অংশ এবং পড়ে থাকা ডিভাইডারগুলো হয়ে উঠেছে ‘মৃত্যু ফাঁদ’।
অপরদিকে এ মহাসড়কে অনেকগুলো ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। এতে করে দ্রুত গতিতে চলা গাড়িগুলোকে হঠাৎ করে ধীর চলতে হয় গর্তগুলোর ওপরদিয়ে। ফলে পিছনে থাকা যানবহনের দীর্ঘ জট বেধে যায়। এতে করে ঈদে বাড়বে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা।
মহাসড়কটির সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় অনেক ব্যস্ততম একটি মোড়। এ মোড়কে কেন্দ্র করে মহাসড়কের অর্ধেক জায়গা দখল করে মার্কেটগুলোর মালিকপক্ষের লোক, রাজনীতিক কর্মী ও প্রশাসনের কিছু লোক। মহাসড়ক দখল করে রাখা জায়গা থেকে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করে সংশ্লিষ্টরা। তবে দূর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। মহাসড়কের অর্ধেক জায়গা দখল করে রাখায় পরিবহণগুলোকে ধীরে চলতে হয়। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। যা স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যাহ মজুমদার বলেন, আমরা অফিস থেকে বের হলে এ অল্প জায়গা পার হতে আধাঘণ্টা সময় লাগে। কিছু মানুষ ব্যবসা করছে আর হাজার হাজার মানুষ যানজটের কবলে পড়ে দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সমস্যাগুলোর ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ উপবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিমের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। তবে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যাহ মজুমদার বলেন, আমরা একা উচ্ছেদ করতে পারছি না। আমরা এসপি অফিসে চিঠি দিয়েছি। ওনারা সময় দিলে উচ্ছেদ করা হবে। ভাঙ্গা রাস্তাগুলো ঈদের আগেই ছোট-বড় গর্ত সংস্কার এবং পড়ে যাওয়া ডিভাইডারগুলো যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করার কথা বলেন তিনি। এতে ঈদে ঘর ফেরা মানুষের দূর্ভোগ হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমস্যাগুলো লাঘবে করণীয়তার ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ জানায়, সম্প্রতি এ ব্যাপারে ঢাকায় এক বৈঠক হয়েছিল। ঐ বৈঠকে আমি সমস্যাগুলোর কথা উত্থাপন করেছি। তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন, ঈদের আগেই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন। এখন অপেক্ষা করছি, আশা করছি ঈদের আগে এ মহাসড়ক নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী হবে।