পেশির পরিমাণের দিক থেকেও পার্থক্য চোখে পড়ার মতো উঠে এসেছে গবেষণায়। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির পরিমাণ কমতে থাকে। তরুণদের প্রতিটি পায়ে গড়ে বয়স্কদের তুলনায় প্রায় দুই পাউন্ড বেশি পেশি থাকে কিন্তু গবেষণায় অংশ নেওয়া তরুণরা যখন দুই সপ্তাহ পুরোপুরি অচল ছিল, তখন তারা গড়ে প্রায় ১৭ আউন্স পেশি হারায়।অন্যদিকে, বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ আউন্স। তবে সব বয়সের অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, পা অচল থাকার সময় তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমে গেছে।
গবেষণায় আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে এই গবেষণায়—যাদের শরীরে পেশি বেশি, তাদের ক্ষতিও বেশি।
একই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আরেক গবেষক মার্টিন গ্রাম বলেন, আপনার শরীরে যত বেশি পেশি থাকবে, আপনি নিষ্ক্রিয় হলে তত বেশি পেশি হারাবেন। অর্থাৎ, আপনি যদি ফিট থাকেন এবং পরে যদি নিষ্ক্রিয় হয়ে যান, তাহলে একই সময়ের মধ্যে একজন আনফিট ব্যক্তির তুলনায় আপনার পেশি ক্ষয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তিনি আরও বলেন, বয়স্করা তুলনামূলক কম পেশি হারালেও এবং তাদের ফিটনেস কিছুটা কম কমলেও, এই ক্ষতি তাদের জন্য বেশি গুরুতর হতে পারে। কারণ এটি তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নিষ্ক্রিয়তার পর শরীরকে আগের অবস্থায় ফেরানোও সহজ নয়। গবেষকদের মতে, পেশিশক্তি পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রয়োজন শক্তি-বর্ধক ব্যায়াম, যেমন ওজন তোলা বা রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং। সাইক্লিং বা কার্ডিও ব্যায়াম পেশির ভর ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করলেও শক্তি বাড়াতে তা যথেষ্ট নয়।
দুই সপ্তাহ অচল থাকার পর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা সাইকেল চালিয়ে ব্যায়াম শুরু করেন। তারা ছয় সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন করে অনুশীলন করেন। এই ব্যায়ামের ফলে তারা তাদের শারীরিক সক্ষমতা অনেকটা ফিরে পেলেও, গবেষকরা দেখেছেন যে তাদের পেশিশক্তি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি।
গবেষক ভিগেলসো বলেন, দুঃখজনকভাবে বলতে হয় যে, শুধু সাইকেল চালানো এই অংশগ্রহণকারীদের পেশিশক্তি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এটি পেশির ভর ফিরে পেতে এবং আগের ফিটনেস পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করে। যদি আপনি নিষ্ক্রিয়তার পর পেশিশক্তি পুনরুদ্ধার করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই ওজন উত্তোলন বা শক্তি-বর্ধক ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে গবেষক মার্টিন গ্রাম বলেন, নিষ্ক্রিয়তার কারণে এত দ্রুত পেশি ক্ষয় হওয়া সত্যিই বিস্ময়কর। আপনি যতদিন নিষ্ক্রিয় থাকবেন, সেই সময়ের প্রায় তিনগুণ সময় লাগে পেশির ভর পুনরুদ্ধার করতে।
গবেষণা এই বার্তা দেয় যে—শরীর যত দ্রুত শক্তি হারায়, তা ফিরে পেতে সময় লাগে তার চেয়েও বেশি। তাই শরীরকে সচল রাখা শুধু ফিট থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। কয়েকদিনের অলসতা হয়তো তেমন কিছু মনে না হলেও, তার প্রভাব জমতে জমতে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই ব্যস্ততা, অসুস্থতা বা ছুটির মাঝেও শরীরকে যতটা সম্ভব সক্রিয় রাখতে হবে।