ইসলামে জাকাত আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাস বা রমজানের বাধ্যবাধকতা নেই। এটি নির্ভর করে ব্যক্তি কবে থেকে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তার ওপর। তাই হিজরি বা চান্দ্র বর্ষ অনুযায়ী যে তারিখে ব্যাক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবেন, সেই তারিখটি নোট করে রাখা জরুরি। তারপর ওই নির্দিষ্ট তারিখ থেকে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর যদি ব্যাক্তি নিসাবের মালিক থাকেন, তবে তার ওপর জাকাত আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়।
তখন তার উচিত, দ্রুত জাকাত আদায় করে দেওয়া। কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া শুধু রমজানের অপেক্ষায় জাকাত আদায়ে দেরি না করা। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ২-২৭১)
তাই ফোকাহায়ে কেরাম বলেন, বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া জাকাত আদায়ে দেরি করা (এমনকি এক-দুই দিনও) ঠিক নয়। বিশেষ করে রমজান আসতে অনেক দেরি থাকলে রমজানের অপেক্ষা না করে দ্রুত জাকাত দিয়ে দায়িত্বমুক্ত হওয়া উচিত।
(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়্যা, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৭৫)
তবে যদি কারো জাকাতের বছর রমজানের ঠিক আগে (যেমন : শাবান মাসে) পূর্ণ হয় অথবা বিশেষ কোনো কারণে সঙ্গে সঙ্গে দিতে না পারেন, তাহলে তার জন্য রমজানে আদায় করার অবকাশ রয়েছে এবং তিনি রমজানের বিশেষ ফজিলতও পেয়ে যাবেন। যেমনটি হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানে একটি নফল আদায় করা অন্য সময়ের একটি ফরজের সমান এবং একটি ফরজ আদায় করা সত্তরটি ফরজের সমান সওয়াব এনে দেয়। (আল মাকাসিদুল হাসানাহ, হাদিস নং : ৪৯৫)
যদি কেউ নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার সঠিক তারিখ ভুলে যান, তবে চিন্তা-ভাবনা করে যে তারিখটির ওপর প্রবল ধারণা হবে, সেটিকেই জাকাত আদায়ের তারিখ হিসেবে নির্দিষ্ট করে নেবেন। এক্ষেত্রে যদি কোনোভাবেই তারিখ নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, তবে তিনি রমজান মাস বা যেকোনো একটি চান্দ্র তারিখ (যেমন: পহেলা মহরম) নির্ধারণ করে নিতে পারেন।
পরবর্তীতে প্রতি বছর ওই তারিখেই জাকাত হিসাব করবেন। যদি কোনো অনিচ্ছাকৃত বা বড় কোনো বাধ্যবাধকতার কারণে বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাকাত দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে পরবর্তী বছর আসার আগেই দ্রুত তা আদায় করে নিতে হবে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও জাকাত আদায়ে অহেতুক বিলম্ব করা গুনাহের কাজ। (ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম, খণ্ড : ৬, পৃষ্ঠা : ৬৪)
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..