আইন ও শাসন বিভাগের তুলনায় বিচার বিভাগ বেশি উপেক্ষিত : আইনমন্ত্রী
Asad zaman
/ ৪৬
ভিউ:
হালনাগাদ:
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
শেয়ার করুন:
আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় বাজেটে বিচার বিভাগের বরাদ্দ তুলনামূলক কম, প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সেখানে শুধু বিটিভির জন্য বরাদ্দ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা; যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দও এর চেয়ে বেশি। এই বরাদ্দ দিয়ে বিচারকদের বেতন, প্রশাসনিক ব্যয় ও অবকাঠামো পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্তৃক অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
দেশের ৩২ জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের চার হাজার ৪০টি মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ গবেষণা পর্যবেক্ষণ উপস্থাপনের জন্য এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারে ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পাচ্ছেন। এর বিপরীতে সাজা হচ্ছে মাত্র ৩ শতাংশ মামলার আসামির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আলোচনায় বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছে, পরিসংখ্যান এসেছে, বাস্তবচিত্র উঠে এসেছে। এসবের মূল কথা হলো, আমাদের সক্ষমতা, বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও আইন প্রশাসনের সক্ষমতা।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন আইনজীবী ছিলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, বর্তমানে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।
জাতীয় বাজেটের দিকে তাকালে এটি স্পষ্ট হয়।’আগামী বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই বিচার বিভাগের বাজেট আরো বৃদ্ধি পাক। কিন্তু বাজেট আলোচনায় নানা স্তরের প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। এই কাঠামোগত সমস্যাগুলো আমাদের সমাধান করতে হবে।
বিচার বিভাগে বিচারক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং কাঠামোগত ভারসাম্য নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত জনবল কাঠামোতে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা যায়। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেক স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। একইভাবে বার কাউন্সিলের পরীক্ষাও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে মানসিকতা, কাঠামো এবং সক্ষমতা—এই তিন ক্ষেত্রেই উন্নতির তাগিদ দেন আইনমন্ত্রী।ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরামর্শ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা ও আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন।