কপোতাসন কী?
সংস্কৃত শব্দ ‘কপোত’ মানে পায়রা এবং ‘আসন’ মানে ভঙ্গি। কপোতাসন বা পিজিয়ন পোজ হলো একটি যোগ আসন। শরীরকে দেখতে অনেকটা পায়রার মতো ভঙ্গি ধারণ করতে হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শ্রীতত্ত্বনিধিতে এই ভঙ্গিকে কপোতাসন নাম দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে চেয়ার-ভিত্তিক ব্যায়াম শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। যেখানে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম এবং অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই পেশি সচল থাকে।
যেভাবে করবেন এই ব্যায়াম
চেয়ার কপোতাসন খুবই সহজ।তবে সঠিকভাবে করলে তবেই এর উপকার পাওয়া যায়।প্রথমে একটি স্থিতিশীল চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে হবে। পিঠ যেন একদম সোজা থাকে এবং চেয়ারে হেলান দেওয়া যাবে না। দুই পায়ের পাতা মাটিতে সমানভাবে রাখতে হবে, যাতে শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে। মাথা ও ঘাড় স্বাভাবিকভাবে সোজা থাকবে এবং দুই হাত থাকবে কোলের ওপর।
এরপর ধীরে ধীরে বাঁ পা ভাঁজ করে ডান উরু বা হাঁটুর ওপর রাখতে হবে। এই অবস্থায় শরীরকে জোর না করে স্বাভাবিকভাবে স্থির রাখা গুরুত্বপূর্ণ।এবার সামান্য সামনে ঝুঁকে বাম পায়ের হাঁটু ধরতে হবে। এই সময় খেয়াল রাখতে হবে, মেরুদণ্ড যেন বাঁকা না হয় বা অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে—গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে।এই অবস্থায় প্রায় ১০ সেকেন্ড থেকে ধীরে ধীরে পা নামিয়ে ফেলতে হবে। এরপর একই প্রক্রিয়ায় অন্য পায়ের সঙ্গে ব্যায়ামটি করতে হবে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ করতে হবে।
ব্যায়ামে যত উপকারিতা
এই ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও করা যায়। নিয়মিত চর্চা করলে —
১.নিতম্ব ও কোমরের আশপাশের পেশি ধীরে ধীরে নমনীয় হয়
২. ব্যথা কিছুটা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে
৩.দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার কারণে হওয়া পিঠ ও কোমরের চাপ হ্রাস পায়
৪.অস্থিসন্ধির জড়তা কমে গিয়ে চলাফেরা সহজ হয়
৫.পায়ের কাফ মাসল শক্তিশালী হয়, ফলে হাঁটাচলায় স্থিতিশীলতা বাড়ে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো উচ্চমাত্রার ব্যায়াম নয়, বরং একটি সহজ ব্যায়াম যা শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত চর্চায় কমায় ওজনও।

সতর্ক থাকবেন যারা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের শক্তি ও নমনীয়তা কমে এলে কোমর, হাঁটু, ঘাড় ও অস্থিসন্ধির ব্যথায় নিত্যদিনের চলাফেরায়ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই বয়সে অনেক ব্যায়ামই তাদের জন্য হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের জন্য এই ব্যায়াম বেশ নিরাপদ ও কার্যকর। তবে সব বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী হলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। যাদের—
১.হাঁটুতে অপারেশন হয়েছে
২.স্লিপ ডিস্ক বা মেরুদণ্ডে গুরুতর সমস্যা রয়েছে
৩.ব্যায়াম করার সময় তীব্র ব্যথা হয়
তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ব্যায়াম না করাই নিরাপদ।
শরীরচর্চা মানেই যে খুব কঠিন বা কষ্টকর ব্যায়াম নয়—এই ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। চেয়ার পিজিয়ন পোজ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। সীমিত শারীরিক সক্ষমতার মধ্যেও নিয়মিত ও সঠিকভাবে করা গেলে এটি শরীরকে সচল রাখতে এবং বয়সজনিত জটিলতা কিছুটা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।