মাড়ি থেকে রক্ত পড়াকে অনেকেই সাধারণ দাঁতের সমস্যা বলে গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এটি মুখের ভেতরের বা শরীরের আরও গুরুতর কোনো সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো জিনজিভাইটিস, যা দাঁতের চারপাশে প্লাক জমে মাড়ির হালকা প্রদাহের কারণে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করলে এটি পেরিওডোনটাইটিস-এ রূপ নিতে পারে, যেখানে মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত দাঁত পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
ব্রাশ বা ফ্লস করার সময় রক্ত পড়া, মাড়ি লাল বা ফুলে যাওয়া, ব্যথা এবং দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ থাকা—এসব উপসর্গ উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এগুলো সাধারণত মাড়ির প্রদাহের ইঙ্গিত দেয়।
দাঁতের পরিচর্যার অভাব ছাড়াও ধূমপান, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন, বয়ঃসন্ধি বা মেনোপজ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধও মাড়িকে বেশি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া শুধু মুখের সমস্যা নয়; কখনও কখনও এটি শরীরে ভিটামিন সি বা ভিটামিন কে-এর ঘাটতির লক্ষণও হতে পারে। আবার অকারণ বা বারবার রক্ত পড়া রক্তজনিত রোগ বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে।
এছাড়া মুখে দীর্ঘদিন ঘা, অস্বাভাবিক সাদা বা লাল দাগ, অকারণে গুটি তৈরি হওয়া, দাঁত নড়ে যাওয়া কিংবা খাদ্য চাবানো ও গিলতে সমস্যা হলে তা আরও গুরুতর রোগের সংকেত হতে পারে—কিছু ক্ষেত্রে মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে, বিশেষ করে তামাক বা অ্যালকোহল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এ আশঙ্কার হার বেশি।
প্রতিরোধের জন্য দিনে দুইবার ব্রাশ করা, নিয়মিত ফ্লস করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং দাঁতের নিয়মিত চেকআপ করাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসা মুখের পাশাপাশি সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।