চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে থাকা বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যৌথ বিনিয়োগ এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একই সঙ্গে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করা এবং সে দেশে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিটিআই)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। তবে এ বাণিজ্যে বাংলাদেশ বড় ধরনের ঘাটতিতে রয়েছে। চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হলেও দেশটি থেকে বছরে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের কম পণ্য রপ্তানি করতে পারছে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে যৌথ উদ্যোগ বা ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ নেওয়ার পরামর্শ দেন মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘চীনা প্রতিনিধিদলের এই সফর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উপস্থিতি ও পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনায় চীনা উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
বৈঠকের মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিশেষ কিছু খাতে চীনা উদ্যোগের আহ্বান জানান।এর মধ্যে রয়েছে—খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মেডিক্যাল ডিভাইস, ওষুধ ও এপিআই শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পাট ও পাটজাত পণ্য।বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান চীনের হংহে অঞ্চলের ব্যুরো অব কমার্সের পরিচালক হে তাও। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া আরো সহজ করা এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উন্মোচন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হক, প্রীতি চক্রবর্তী, ওবায়দুর রহমান, মহাসচিব মো. আলমগীর, সেফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদুল্লাহসহ বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।