জ্ঞান এমন হওয়া উচিত, যা অহংকার বাড়াবে না; বরং বিনয় বাড়াবে। জ্ঞান এমন হওয়া উচিত, যা বিতর্কপ্রিয়তা বাড়াবে না; বরং সত্য গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করবে। জ্ঞান এমন হওয়া উচিত, যা শুধু অন্যের ভুল খুঁজে বের করবে না; বরং নিজের সংশোধনের পথ দেখাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১)
জ্ঞান ও আমলের সুন্দর উদাহরণ
রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্ঞান ও হিদায়াত গ্রহণকারী মানুষের উদাহরণ দিয়েছেন বৃষ্টিতে সিক্ত উর্বর জমির সঙ্গে। তিনি বলেছেন, কিছু জমি বৃষ্টির পানি ধারণ করে এবং তা থেকে ঘাস ও উদ্ভিদ জন্মে; আবার কিছু জমি পানি ধারণ করে, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়। আর কিছু জমি এমন, যা পানি ধারণও করে না এবং উদ্ভিদও উৎপন্ন করে না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৮২)
এই হাদিসে প্রথম দুই ধরনের জমি সেই মানুষের উদাহরণ, যে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান গ্রহণ করে, নিজে উপকৃত হয় এবং অন্যদেরও উপকার করে। আর তৃতীয় ধরনের জমি এমন ব্যক্তির উদাহরণ, যে জ্ঞান গ্রহণ করেও তা থেকে উপকৃত হয় না।
একজন মানুষ অনেক কিছু জানতে পারে, কিন্তু সব জ্ঞান তার জীবনের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে জ্ঞান তাকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়, ফরজ পালনে উদ্বুদ্ধ করে, হারাম থেকে বাঁচায়, মানুষের অধিকার আদায় করতে শেখায় এবং চরিত্রকে সুন্দর করে—সেই জ্ঞানই তার জন্য প্রকৃত সম্পদ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে কোরআন শেখে এবং তা শিক্ষা দেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০২৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করুন, সেই জ্ঞান অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন এবং আমাদের জ্ঞানকে আমাদের জন্য হুজ্জত নয়, বরং নাজাতের মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমিন।