أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللهُ فِي حَاجَتِهِ وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرُبَاتِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে যালিমের হাতে সোপর্দ করবে না।
হাদিসিটিতে মুসলিম সমাজকে ভ্রাতৃত্ব, দয়া, সহানুভূতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির যেসকল অনন্য নীতি বর্ণিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে-
১. এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই
এখানে ভ্রাতৃত্ব বলতে শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, বরং ঈমানের বন্ধনে গড়ে ওঠা প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব বোঝানো হয়েছে।
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ একে অপরের ভাই।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১০)
অতএব একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের প্রতি সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও দয়া প্রদর্শন করবে। যেমন একজন আপন ভাই তার ভাইয়ের জন্য করে থাকে।
২. কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের উপর জুলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না
অর্থাৎ একজন প্রকৃত মুসলিম অন্য মুসলিমের উপর অন্যায় করবে না, তাকে ক্ষতি করবে না এবং কাউকে তার ক্ষতির সুযোগ করে দেবে না।
৩. কোনো মুসলিম অপর মুসলিম ভাইয়ের অভাব পূরণ করলে আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন
এটি দুনিয়া-আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মানুষের চাহিদা পূরণ করা।
৪. যে কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন
এটি কিয়ামতের ভয়াবহতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। যেমন দুনিয়ায় কেউ কারো দুঃখ-কষ্ট, সমস্যার সমাধানে সাহায্য করলে, আল্লাহ কিয়ামতের ময়দানে তার অসংখ্য ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তি দেবেন। এটি আল্লাহর দয়া আর ন্যায়বিচারের প্রতিফল।
৫. যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন
এখানে উদ্দেশ্য হলো—মানুষের ত্রুটি গোপন রাখা। কারো গোপনীয়তা প্রকাশ করে অপমান করা বা সমাজে হেয় করা ইসলামে নিন্দনীয়। তবে যদি গোপন রাখা অন্যায় বাড়িয়ে দেয় বা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়, তখন প্রকাশ করা জায়েজ। কিন্তু সাধারণভাবে ইসলামের শিক্ষা হলো—মানুষের ভুলত্রুটি আড়াল করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। রাসুল (সা.) বলেন: “যে তার ভাইয়ের দোষ আড়াল করে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ আড়াল করবেন।” (মুসলিম, হাদিস: ২৫৯০)
অতএব, মুসলিম সমাজের প্রকৃত ঐক্য ও শান্তি তখনই আসবে, যখন আমরা এ হাদিসের নির্দেশনা অনুসারে ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি ও দয়ার ভিত্তিতে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারব। আল্লাহ আমাদের সকলকে নববী আদর্শের আলোকে সর্বাবস্থায় একে অপরের পাশে থাকার তাওফিক দান করুন।