তিনি আরো বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি কূটনীতিক, মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি জায়গায় তাদের পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে চান তিনি। এসএমই ফাউন্ডেশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যোগাযোগ করলে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্পকলা, ফটোগ্রাফি, চলচ্চিত্র, নাটক, নাচ, পাটজাত পণ্য, প্রসাধনী ও গহনাসহ বিভিন্ন পণ্য এ অর্থনীতির অংশ। এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান অনেক বেশি। সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়েদের প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সরকার কাজ করছে। নারী শিক্ষার প্রসার ও যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে নারীরা সব ক্ষেত্রেই আরও ভালো করবেন।
নিজেকে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের প্রত্যেকের পেছনে সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প রয়েছে। এসব গল্প দেশের ১৭ কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারেন।
আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন বাজার খোঁজা, অর্থায়ন, ব্যাংক ঋণ সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশসহ যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদের সমস্যা সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।