أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ يَقُولُ حَدَّثَنَا صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللهِ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ
আবু আমর শায়বানী (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বাড়ির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এ বাড়ির মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, ‘যথাসময়ে নামাজ আদায় করা। ইবনে মাসউদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেন, অতঃপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা। (বুখারি, হাদিস : ৫২৭)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
যথাসময়ে নামাজ আদায় : নামাজ ইসলামের স্তম্ভগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন : ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।
পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার
নামাজের পরপরই পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্দেশ করে পিতা-মাতার অধিকার কত বড়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন : ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন—তোমরা শুধু তাঁর ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করবে।
হাদিস থেকে শিক্ষা
এই হাদিস আমাদেরকে একটি অগ্রাধিকারের তালিকা দেখায়—কোন আমলগুলো আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়।নামাজ আল্লাহর হক বা অধিকার, আর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার মানুষের হক। অর্থাৎ একজন প্রকৃত মুমিনের জীবন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক এবং মানুষের (বিশেষ করে পিতা-মাতার) সাথে সম্পর্কের সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে।হাদিসটি আমাদেরকে শিখায় যে ধর্মীয় দায়িত্ব (নামাজ) ও পারিবারিক দায়িত্ব (পিতা-মাতার হক) উভয়ই সমান গুরুত্বের সাথে পালন করতে হবে।এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে—আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রথম সোপান হলো নামাজ সময়মতো আদায় করা, আর দ্বিতীয় সোপান হলো নিজের পিতা-মাতার সাথে সৎ ও ভদ্র ব্যবহার করা।