নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের পলাশকান্দি গ্রামে জোরপুর্বক জমি দখল, ঘর-বাড়ি ভাংচুর, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণ নাশের হুমকীসহ নানা বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে দুর্গাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ননা দেন কৃষক সুরুজ আলী মুন্সি ও আব্দুল হেকিমের পরিবার।
সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে সুরুজ আলী মুন্সি বলেন, পারিবারিক ভাবে বন্টন হওয়া জমির মধ্যে ৪০শতক জমি ওনার আত্মীয় দিনমজুর আব্দুল হেকিমের কাছে বিক্রি করেন। বিক্রির পর থেকে বিরিশিরি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীগণ আমার ভাইয়ের পরিবার ও ভাগ্নিদের সহায়তায় জমি বাটোয়ারা হয়নি মর্মে নানাভাবে হয়রানী করে আসছে। শালিসের মনগড়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলতে না পারার কারনে গত দুইবছর যাবৎ এক একর ধানের জমি জোরপুর্বক দখল করে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করছে দলীয় নেতাকর্মীরা। এ ব্যপারে আমি কিছু বলতে গেলে, নানা ধরনের হুমকী সহ থানায় আমার নামে নানা ধরনের মামলা দিয়ে হয়রানী শুরু করে এমনকি বাড়ীর পাশে পুকুরের মাছ গুলো ধরে নিয়ে যায়।
আব্দুল হেকিম বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী ঢাকায় ইট খলায় শ্রমিকের কাজ করি। অভাবের মাঝেও টাকা জমিয়ে ওই এলাকায় বাড়ি করার জন্য গত পাঁচ বছর আগে সুরুজ আলী মুন্সির কাছ থেকে ৪০শতক জমি ক্রয় করি। গত তিন-চার মাস আগ থেকে ওই জমিতে বসতঘর নির্মানের কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে আমার কাজ বন্ধ করে দেন ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা। গত কয়েকদিন আগে আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ঘর নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেয়। বৃষ্টিতে ভিজে আমার সকল মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেও কোন সুরাহা পাইনি। সাংবাদিকদের সাথে অভিযোগ কালে অন্যদের মাঝে, মো. সুরুজ আলী মুন্সী, আব্দুল হেকিম, আবুল কালাম, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রশীদ, বেগম আক্তার, মোহাম্মদ আলী, সেলিনা আক্তার, জামেনা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে, দুর্গাপুর-কলমাকান্দার মানবিক নেতা, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মহোদয়কে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানাতে চাই, আমাদের জান-মালের কোন নিরাপত্তা নাই। প্রায়ই আমাদের প্রাণ নাশের হুমকী দিচ্ছে। আপনি আমাদের বাঁচান, দোষীদের বিচার করুন।
এ নিয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ঘরের কাজ বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। তবে দুই পক্ষের মাঝে মারামারি হতে পারে বিধায় নির্মান কাজ বন্ধ রাখের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্ট করবো।