আজ সোমবার রায়ের এদিন নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।গত ১৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা বিচারের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
চূড়ান্ত যুক্তিতর্কে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম। আর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আরেক রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ইশরাত জাহান। এর আগে গত ১২ অগাস্ট চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
মামলার অবিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে তাঁরা সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাঁদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ।১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। পরে সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ শেষ হলে গত ৪ আগস্ট থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। টানা ছয় কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। গত ১২ আগস্ট থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ১৭ আগস্ট উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১১ আসামিকে যাবজ্জীন এবং ৩৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ছয় মামলায় ৬২ আসামিকে সাজা হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ২ জন। অর্থাৎ ১০৬ আসামির মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ১০৪ জন। এদের মধ্যে ৪২ আসামি পলাতক।