দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার বালিকান্দি গ্রামে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আবুল কাশেম (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির দক্ষিণ পাশে, রাতের খাবারের উচ্ছিষ্ট পানি ফেলতে গেলে কাশেম ওই কিশোরীকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর কিশোরী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে। পরদিন বিষয়টি প্রতিবেশী এক নারীর কাছে জানায় কিশোরী।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ঘটনা প্রকাশ হলে মেয়েটির ভবিষ্যতে বিয়েতে সমস্যা হবে এমন কথা বলে পরিবারকে নীরব থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ কারণে ভুক্তভোগীর বাবা প্রথমদিকে থানায় অভিযোগ করতেও ভয় পাচ্ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত কাশেমের স্ত্রীও ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রয়োজনে কিশোরীকে তার স্বামীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মতো কথাও বলা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন নারীর অভিযোগ, কাশেমের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্নভাবে নারীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তার বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে পরিবারটির।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগী কিশোরী তাদের কাছে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করে। পরে বিষয়টি দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোন সুপারিশ আমলে নেয়া হবে না।