প্রতিদিনের কোন অভ্যাস আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
নির্দিষ্ট সময়ে না ঘুমানো
মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।ঘুমের মান খারাপ হয়।
বিছানায় শুয়ে কাজ করা, ফোন ঘাঁটা বা সিরিজ দেখার অভ্যাস থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে আর ঘুমের সংকেত হিসেবে নেয় না। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
রাতে ভারী খাবার খাওয়া
রাতে দেরি করে খাওয়া, তেল-মসলাদার বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে বুক জ্বালা, অস্বস্তি ও বার বার ঘুম ভাঙার প্রবণতা বাড়ে।ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা। তা সেরে ফেলতে হবে ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে।
বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তার প্রভাব রাত পর্যন্ত থাকে। অনেকেই ভাবেন এক কাপ কফিতে কিছু হবে না, কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।
ছুটির দিনে দেরি করে ওঠা
ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে নেওয়াকে অনেকেই ঘুম পুষিয়ে নেওয়া ভাবেন। আসলে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ আরো এলোমেলো হয়ে যায়, যাকে বলা হয় সোশ্যাল জেট ল্যাগ। তাই ছুটি পেলেই বেলা অবধি ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন।
মানসিক চাপ
চিন্তা, দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস নিয়ে সরাসরি বিছানায় গেলে মন শান্ত হয় না। মন শান্ত না হলে সেই ভাবনা অবচেতন মনে চলতে থাকে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায় অনেক সময়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ধ্যান, হালকা বই পড়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
সঠিক ঘুমের জন্য দরকার নিয়মিত রুটিন, সচেতন অভ্যাস এবং নিজের শরীরের সংকেত বোঝা। ছোট ছোট এই ভুলগুলো ঠিক করতে পারলেই ধীরে ধীরে আপনার ঘুমের মান উন্নত হবে, যা আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।