রাজপরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে আসা-যাওয়া ঘিরে অসলোতে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দিনভর রাজপ্রাসাদের সামনে মানুষের ভিড় ছিল। অনেকে সেখানে ফুল দিয়ে রাজা হ্যারাল্ডের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। নরওয়ের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলও নিয়মিত অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন এনে রাজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সরাসরি সম্প্রচার করে। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু না জানানো হলেও, পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে যাওয়া এবং রাজকীয় কর্মসূচি বাতিল করার ঘটনায় রাজার শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
রাজা হ্যারাল্ডের অসুস্থতার কারণে প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে তার নির্ধারিত জার্মানি সফর বাতিল করেছেন। বৃহস্পতিবার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা ছিল। পরে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো দেশ আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা রাজা এবং রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভ কামনা জানাচ্ছি। গত কয়েক বছরে রাজা হ্যারাল্ড বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়েছেন। এর কারণে তাকে রাজকীয় দায়িত্বও কমিয়ে দিতে হয়েছে। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ছুটিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তার শরীরে পেসমেকার বসানো হয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ বছর নরওয়ের রাজপরিবারকে আরো কয়েকটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। জুনে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়। ২০১৮ সালে তার শরীরে বিরল ধরনের পালমোনারি ফাইব্রোসিস ধরা পড়ে। এর আগে মেটে-মারিতের ছেলে মারিয়ুস বর্গ হোয়িবিকে ধর্ষণের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন হোয়িবি এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তিনি। হোয়িবির বয়স ২৯ বছর। তার মা মেটে-মারিত যখন ক্রাউন প্রিন্স হাকনকে বিয়ে করেন, তখন হোয়িবির বয়স ছিল চার বছর। তিনি নিজে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্য নন। এপস্টেইনের সঙ্গে মেটে-মারিতের যোগাযোগ
এ বছরের শুরুর দিকেও মেটে-মারিতকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রকাশিত কিছু নথিতে মৃত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে মেটে-মারিতের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে। পরে এপস্টেইনের সঙ্গে তিন বছরের বন্ধুত্বের জন্য নরওয়ের রাজা ও রানির কাছে ক্ষমা চান মেটে-মারিত। তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে তার ‘বিচারবোধ ভালো ছিল না’। জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেটে-মারিত বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কখনো দেখা না হলেই তিনি খুশি হতেন। এর মধ্যেই এখন রাজার গুরুতর অসুস্থতার খবর নরওয়ের রাজপরিবারের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। রাজা হ্যারাল্ডের শারীরিক অবস্থার দিকে এখন পুরো দেশের মানুষের নজর।