তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচিত সরকারই জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। ইতিহাসের প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সঠিক অবস্থানে মানুষের পাশে ছিল। আমরা চাই, ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই উঠে আসুক। সেই কাজও সমান্তরালভাবে চলমান রয়েছে। সুতরাং, একটি কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়ায় প্রতিবছরই যে অবিচ্ছেদ্য ও অনিবার্য সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয়, সেসব কাজ ইতিমধ্যেই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিমার্জনও অব্যাহত রয়েছে।’
নতুন চারটি বইয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনেক আবেগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি তার দীর্ঘদিনের কর্মপরিকল্পনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনে যেহেতু প্রায় এক মাসের মতো সময় রয়েছে, তাই ডেভেলপমেন্ট বা রিভিশনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকু কাজ আরো করা উচিত। পুরো বাংলাদেশ এই বইগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।’
তিনি আরো বলেন, “অবশ্যই খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধ-এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই বইটিকে কিভাবে আরো আকর্ষণীয় করা যায়, এর কারিকুলামকে কিভাবে আরো প্রাসঙ্গিক করা যায় এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এটি দেখতে চান, সেই লক্ষ্য ও ভাবনার সঙ্গে কিভাবে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করার জন্য পুরো টিমের প্রতি আহ্বান।”
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী ১ জানুয়ারি যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া যায়। সে হিসেবে বই বিতরণের লজিস্টিকসের জন্য প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন হবে। যে ডেডলাইন রয়েছে, সে অনুযায়ী অন্তত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে আমাদের প্রায় ৩১ কোটি বই প্রস্তুত থাকতে হবে। এরপর সারা দেশে এই বিপুলসংখ্যক বই কিভাবে প্রকাশ, মুদ্রণ ও বিতরণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, সেই মহাযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক প্রমুখ।