হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও নতুন করে মার্কিন হামলার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও হামলা শুরু করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থানগুলোর ওপর ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই হুমকির ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি পুনরায় সচল করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরো জটিল হয়ে পড়েছে।
ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখনো বন্ধ রয়েছে।বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি এই অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, যা বর্তমানে ১১৪ ডলারে অবস্থান করছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে এই অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও চরম দারিদ্র্য দেখা দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবারের (১ মে) মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করবেন নাকি সামরিক অভিযানের মেয়াদ বাড়াবেন।রয়টার্সের তথ্য মতে, ইরানকে আলোচনায় বসাতে ট্রাম্প নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছেন। এমনকি স্থলবাহিনী ব্যবহার করে প্রণালির একাংশ দখল করার বিকল্পও ভাবছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
তেহরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে।ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, এই জলপথে বহিরাগত শত্রুদের কোনো স্থান নেই এবং এর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে। এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে তেহরানের আকাশে ড্রোন ও নজরদারি বিমান ঠেকাতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তার নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ নামে একটি নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যাতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই জোটে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তারা আগে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিয়েছে।
পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে, যদিও ইরানের মতে দ্রুত কোনো সমাধানের আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। একদিকে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও নভেম্বরের নির্বাচন, অন্যদিকে ইরানের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সামরিক হুমকি—সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..