স্মার্টফোন আসক্তি কী? সহজ কথায়, যখন মোবাইল ফোনের ব্যবহার আপনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং এটি আপনার কাজ, পড়াশোনা বা সম্পর্কে ব্যাঘাত ঘটায়, তখন তাকে ফোন আসক্তি বলা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা স্মার্টফোনকে পকেটে রাখা স্লট মেশিনের সাথে তুলনা করেছেন, যা আমাদের বারবার টানে। চলুন, জেনে নিই ফোন আসক্তির প্রধান কারণসমূহ।
অ্যাপের ডিজাইন: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো অ্যাপগুলো এমনভাবে তৈরি যেন আপনি অবিরাম স্ক্রল করতে থাকেন।মস্তিষ্কের রসায়ন: নোটিফিকেশন বা লাইক-কমেন্ট পেলে আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক এক ধরণের ভালো লাগার হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের বারবার ফোন চেক করতে বাধ্য করে।
বিজ্ঞাপন ও মনোযোগ: সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো বিনামূল্যে দেওয়া হয় কারণ এখানে আপনার মনোযোগই হলো পণ্য। আপনার মনোযোগ বিক্রি করেই তারা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে আয় করে।
আসক্তির লক্ষণ ও প্রভাব:
১. একঘেয়েমি দূর করতে বারবার ফোন দেখা।
২. ফোন কাছে না থাকলে দুশ্চিন্তা বা বিরক্তি হওয়া।
৩. চোখের সমস্যা, মাথা ব্যথা এবং অনিদ্রা।
৪. মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া।
৫. পরিবারের সাথে সময় কাটানোর চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে ডুবে থাকা।
আসক্তি থেকে মুক্তির ৪টি কার্যকর ধাপ:
স্ক্রিন টাইম ট্র্যাকিং: আপনার ফোনে কত সময় কাটাচ্ছেন তা দেখার জন্য ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং (অ্যান্ড্রয়েড) বা স্ক্রিন টাইম (আইফোন) ফিচারের সাহায্য নিন।নোটিফিকেশন বন্ধ করুন: অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। এতে বারবার ফোন চেক করার ইচ্ছা কমবে।বেডরুম থেকে ফোন দূরে রাখুন: রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখুন। অ্যালার্মের জন্য ফোনের বদলে ঘড়ি ব্যবহার করুন।
বিকল্প অভ্যাস: ফোনের বদলে বই পড়া বা শরীরচর্চা করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..