রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বড় সাফল্য পাওয়া গুও ২০১৭ সালে চীন ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক হিসেবে পরিচিত করেন। একই সঙ্গে অনলাইনে তার বড় একটি অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়। তবে পরে র্যাকেট চালানো, প্রতারণা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে গুও দোষী সাব্যস্ত হন। নিউইয়র্কের আদালতের বিচারক আনালিসা টরেস বলেন, গুও ‘চীনে গণতন্ত্র আনতে চাওয়া মানুষদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছেন।
গুও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, এই অর্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। গুও চীনের সরকারের আরো কয়েকজন সমালোচকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাদের একজন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। ব্যানন ও গুওকে প্রায়ই একসঙ্গে অনলাইন ভিডিওতে দেখা যেত। ২০২০ সালে তারা ‘নিউ ফেডারেল স্টেট অব চায়না’ নামে একটি প্রচার অভিযান শুরু করেন। এর লক্ষ্য ছিল চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। সেই বছরেই কানেকটিকাটে গুওর বিলাসবহুল নৌযান থেকে ব্যাননকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আলাদা একটি প্রতারণার মামলায় অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়া মানুষদের প্রতারণা করার একটি পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। পরে ম্যানহাটনের একটি আদালতে ব্যানন প্রতারণার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার প্রথম ডিগ্রির অভিযোগ স্বীকার করেন। তাঁকে তিন বছরের শর্তসাপেক্ষ অব্যাহতির সাজা দেওয়া হয়।
সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের প্রচারণা ঘিরেও তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ ছিল। একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের শেষ মুহূর্তে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে তাকে ক্ষমা করে দেন। এরপর সেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া থেমে যায়।