রজব এমন এক মাস-যে মাসে আমরা মাহে রমজানের পদধ্বনি শুনতে পাই। ইতোমধ্যে রজবের অর্ধাংশ পেরিয়ে গেছে এবং মুমিনের বহুল প্রতীক্ষিত রমজান মাসের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। তবে মৌলিকভাবে রজব মাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। যদিও রজব মাসের গুরুত্ব, তাৎপর্য সম্পর্কে আমরা খুব বেশি অবগত নই।
এই আয়াত থেকে আমরা সম্মানিত মাসের সংখ্যা জানতে পারলাম। কিন্তু সম্মানিত মাসের নাম আমরা জানতে পারি হাদিস থেকে। রসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যেদিন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, সময় সেদিন যেভাবে ছিল তা আজও তেমনি আছে। বারো মাসে এক বছর।
সুরা তওবার যে আয়াতে আল্লাহ চারটি সম্মানিত মাসের কথা বলেছেন, সেখানে তিনি এ-ও বলেছেন, ‘সুতরাং এ মাসগুলোর ভিতর তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।’ এর মাধ্যমে রজব মাসের আরেকটি করণীয় সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। সেটা হলো, এ মাসে নিজেদের ওপর জুলুম করা যাবে না। জুলুম মানে শুধু অবিচার নয়, জুলুম মানে পাপাচারও। তাই রজব মাসে সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকতে হবে। এই মাসে আপনি যদি পাপ করেন, তবে আপনার গুনাহের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই মাসের পাপাচারের ব্যাপারে আমাদের বেশি সতর্ক হতে হবে।
এ ছাড়া যে নেক কাজগুলো আমরা সারা বছর করি, সম্মানিত মাস হিসেবে রজবে সেগুলোর প্রতি আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমরা সারা বছরই পড়ি। এই মাসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। অন্যান্য নফল আমল, যেমন নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, নফল রোজা, সাপ্তাহিক সুন্নত রোজা, আইয়ামে বীজের রোজা, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির এগুলোর প্রতি আমাদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে।
রজব মাসকে ঘিরে অনেক অঞ্চলে ইসলামের নামে নানা ধরনের কুসংস্কার চালু আছে। যেমন রজব মাসে বিয়ে করা, মৃত্যুবরণ করা, চুল-নখ কাটা অশুভ। এগুলোর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো নেহাতই কুসংস্কার। আবার রজব মাসের বিশেষ নামাজ, বিশেষ রোজার প্রচলন আছে কোনো কোনো অঞ্চলে। এগুলোরও কোনো ভিত্তি নেই। আমরা সারা বছর যে আমলগুলো করি, রজব মাসেও সেগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে করব। কিন্তু রজব মাসের জন্য বিশেষ কোনো নামাজ বা রোজার নির্দেশনা যেহেতু ইসলামে নেই, তাই এগুলো থেকে আমরা বিরত থাকব। রজব মাসের বিশেষ একটি দোয়ার কথা এসেছে, যদিও এর সূত্র দুর্বল, তারপরও এর অর্থ খুবই চমৎকার। সেটা হলো, হে আল্লাহ, আমাদের রজব-শাবানে বরকত দান করুন আর আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন। এই দোয়ার ভিতর মুমিনের রমজান পাওয়ার ব্যাকুলতা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। তাই, রমজান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় রজব ও শাবান মাসে আমরা এই দোয়া করতে পারি। বিশেষ করে রমজানকে সার্থক করে তোলার প্রস্তুতি রজব থেকেই শুরু হওয়া উচিত। কেননা ইসলামের সোনালি যুগের মনীসীদের অনেকে রমজান শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতেন। তাই আসুন, এই পবিত্র মাসে আমরা ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দিই এবং এখন থেকেই কাঙ্ক্ষিত রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।
জুমার মিম্বর থেকে
গ্রন্থনা : সাব্বির জাদিদ