বাজার থেকে মাংস কিনে এনে রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া সব পরিবারেরই দীর্ঘদিনের নিয়ম। অনেকেই মনে করেন, কাঁচা মাংস ধুলে জীবাণু দূর হয় এবং খাবার নিরাপদ হয়। বিশেষ করে মুরগির মাংসে সালমোনেলা ও ক্যাম্পাইলোব্যাক্টারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে বলে অনেকে ধোয়া জরুরি মনে করেন।
কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা সঠিক নয়।বরং কাঁচা মাংস ধোয়ার অভ্যাস উল্টো অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কেন মাংস ধোয়া ঝুঁকিপূর্ণ
খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, কাঁচা মাংস পানি দিয়ে ধুলে জীবাণু নষ্ট হয় না। বরং কয়েকটি বিপদ তৈরি হয়। সেগুলো হচ্ছে—
ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে : মাংস ধোয়ার সময় পানির ছিটে সিংক, রান্নাঘরের টেবিল, বাসনপত্র এমনকি আশেপাশের খাবারেও ছড়িয়ে যেতে পারে।এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্রস কন্টামিনেশন।
হাতের মাধ্যমে সংক্রমণ : মাংস ধোয়ার সময় জীবাণু হাতে লেগে যেতে পারে। পরে সেই হাত ধোয়া না হলে বা অন্য জিনিসে স্পর্শ করলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে।
লেবু বা ভিনেগারেও সমাধান নয় : অনেকে লেবুর রস বা ভিনেগার মিশিয়ে ধোয়ার চেষ্টা করেন।কিন্তু এগুলোও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে পারে না।
কী ধরনের অসুখ হতে পারে
সালমোনেলা ও ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার জাতীয় জীবাণু শরীরে ঢুকলে ডায়রিয়া, বমি, পেটের তীব্র ব্যথা, জ্বর,
গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা গুরুতর হতে পারে।
নিরাপদ উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা মাংস ধোয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিচের নিয়মগুলো মানাই নিরাপদ—
প্যাকেট থেকে সরাসরি রান্নার জন্য ব্যবহার করুন।
- ভালোভাবে রান্না করুন। উচ্চ তাপমাত্রায় ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। রান্নাই হলো সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।
- হাত ধোয়া জরুরি। কাঁচা মাংসে হাত লাগানোর পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিন।
- আলাদা পাত্র ব্যবহার করুন। কাঁচা মাংস কাটার বোর্ড, ছুরি ও প্লেট অন্য খাবারের সঙ্গে মেশাবেন না।
- রান্নাঘর পরিষ্কার রাখুন। মাংস প্রস্তুতের পর সিঙ্ক, টেবিল ও ব্যবহৃত জায়গা জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
অনেকদিনের অভ্যাস বদলানো কঠিন হলেও, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এটি জরুরি। মনে রাখতে হবে, পানি নয়, তাপই জীবাণু মারার আসল উপায়। সচেতন থাকলে খাবার হবে নিরাপদ, পরিবারও থাকবে সুস্থ।
এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ..