পাপ গোপন রাখার তাৎপর্য
শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সব উম্মতকে কিয়ামতের দিন ক্ষমা করা হবে। শর্ত হলো, নিজের কোনো পাপ হয়ে গেলে সেটি গোপন রাখতে হবে।
এ ছাড়া কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা মুমিন ব্যক্তিকে অত্যন্ত কাছাকাছি নিয়ে, স্বীয় আবরণে আবৃত করে তার পাপের স্বীকারোক্তি নিয়ে বলবেন, ‘আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দেব। তারপর তার নেকের আমলনামা তাকে দেওয়া হবে।
অন্যের পাপ গোপন রাখার তাৎপর্য
অন্যের পাপ গোপন রাখার ফজিলত অনেক বেশি। দুনিয়ায় অন্যের দোষ গোপন রাখলে কিয়ামতের দিন নিজের দোষ গোপন রাখা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দা যদি অন্য কোনো লোকের ত্রুটি-বিচ্যুতি দুনিয়ায় আড়াল করে রাখে আল্লাহ তাআলা তার ত্রুটি-বিচ্যুতি কিয়ামত দিবসে আড়াল করে রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৪৮৯)
অন্যের পাপ প্রকাশ করে সম্মানহানি করা নিষিদ্ধ
কারো পাপ অপরের কাছে প্রচার করে তার সম্মানহানি করা ইসলামে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ। আর মুমিনের সম্মান আল্লাহ তাআলার নিকট পবিত্র কাবার থেকেও বেশি। যেমনটি ইবনে উমর (রা.) কাবার দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুমি কতই না মহান! তুমি কতই না সম্মানিত, কিন্তু তোমার চেয়েও মুমিনের সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক বেশি।’
তিনি আরো বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধানে নিয়োজিত হবে, আল্লাহ তাআলা তার গোপন দোষ প্রকাশ করে দেবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৩২)
তবে যদি কারো এমন পাপ হয়, যা ব্যক্তি বা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ, তবে তা প্রকাশ করা জরুরিও হবে। যেমন—ডাকাতি করা, বৃহৎ কোনো চক্রান্ত করা ইত্যাদি। কোনো মুমিন ব্যক্তির করা আল্লাহর হকসংক্রান্ত কোনো গোপন পাপ সম্পর্কে জানতে পারলে তা অবশ্যই গোপন রাখতে হবে।