বিশেষ করে এমন অভিযোগ, যার পক্ষে কোনো কারণ বা প্রমাণ নেই—যেমন কাউকে ব্যভিচার বা মদ্যপানের অভিযোগে অভিযুক্ত করা, অথচ তার বিরুদ্ধে এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই, যা ওই অভিযোগকে সমর্থন করে—এ ধরনের অভিযোগ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
এখানে ‘ধারণা’ শব্দটি ‘অভিযোগ’ অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ হলো এর পরই বলা হয়েছে, ‘তোমরা গোপন অনুসন্ধান কোরো না।’ কারণ প্রথমে কারো সম্পর্কে মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, এরপর সেই সন্দেহ সত্য কি না তা জানার জন্য তার গোপন বিষয় অনুসন্ধান করা, খোঁজখবর নেওয়া কিংবা কান পেতে শোনা শুরু হয়। এ কারণেই মহানবী (সা.) এ ধরনের আচরণ থেকে নিষেধ করেছেন।
এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, যে সন্দেহের পক্ষে কোনো সঠিক আলামত বা দৃশ্যমান কারণ নেই, তা থেকে বিরত থাকা এবং এমন সন্দেহ পোষণ করা হারাম। যদি কোনো ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে সৎ, গোপনীয়তা রক্ষাকারী এবং বিশ্বস্ত হিসেবে দেখা যায়, তাহলে তার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ ছাড়া দুর্নীতি বা বিশ্বাসঘাতকতার ধারণা করা নিষিদ্ধ। তবে যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে সন্দেহজনক ও নিন্দনীয় কাজে অভ্যস্ত হিসেবে পরিচিত, তার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। হাসান (রহ.) বলেছেন : ‘আমরা এমন একসময়ে ছিলাম, যখন মানুষের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা হারাম ছিল। আর আজ তোমরা এমন সময়ে আছো—নিজের কাজ করো, নীরব থাকো, আর মানুষের সম্পর্কে যা ইচ্ছা ধারণা করো।’ (আল-জামি লি-আহকামিল কোরআন, খণ্ড-২০, পৃষ্ঠা-৩৮০)
অতএব, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি এমন কোনো সন্দেহ, অস্পষ্টতা বা গ্রহণযোগ্য কারণ থাকে, যা তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেয়, তাহলে সেই সন্দেহের কারণে শাস্তির সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে হবে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাধ্যানুযায়ী তোমরা মুসলিমদের দণ্ড প্রদান পরিহার করে চলো। কোনো ধরনের সুযোগ থাকলে তাকে দণ্ড থেকে পরিত্রাণ দাও। কেননা ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) শাস্তি প্রদানে ভুল করার চেয়ে মাফ করে দেওয়ার ভুল উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪২৪)